বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃঢ়তা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৪.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতার দৃঢ়তার প্রতিফলন।
মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ (BPM-6) হিসাব পদ্ধতির অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯.৮১ বিলিয়ন ডলার, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই উচ্চমানের রিজার্ভ দেশের আমদানি ও বৈদেশিক দেনার পরিশোধ সহজতর করবে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস
২০২৬ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। মাসব্যাপী প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার (৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ) পৌঁছেছে, যা এক মাসের ভিত্তিতে দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বিশদভাবে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো মারফত এসেছে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দুইটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে কৃষি ব্যাংক মারফত এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রবাসী অর্থের প্রভাবকে দৃঢ় করছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো মারফত পাঠানো রেমিট্যান্স হয়েছে ২৬৪ কোটি ডলার, এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ২০ হাজার ডলার।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসী কর্মীদের এই বিপুল অর্থপ্রবাহ কেবল রিজার্ভ বৃদ্ধি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, আমদানি কার্যক্রম এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক।
নিচে রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ | ৩৪.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার |
| বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ | ২৯.৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার |
| মার্চ ২০২৬ রেমিট্যান্স | ৩.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার |
| রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে | ৬৪ কোটি মার্কিন ডলার+ |
| কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে | ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার |
| বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে | ২৬৪ কোটি মার্কিন ডলার |
| বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে | ১ কোটি ২০ হাজার মার্কিন ডলার |
| রেকর্ড সূচক | এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স |
সবমিলিয়ে, বৈদেশিক মুদ্রার এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা এবং রেমিট্যান্সের রেকর্ড বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রবাসী অর্থের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী মুদ্রার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করছে। প্রবাসী ও স্থানীয় ভক্তদের অবদান দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা এনেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
