বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক তহবিলের সমর্থন অব্যাহত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের সঙ্গে তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। আইএমএফের বাংলাদেশ বিশেষ প্রতিনিধি ম্যাক্সিম ক্রিশকো মঙ্গলবার (১২ মার্চ) নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানা যায়, ডেপুটি গভর্নর মোঃ হাবিবুর রহমানও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ক্রিশকো বৈঠকে আরও উল্লেখ করেছেন যে, আইএমএফ দেশের সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য আগ্রহী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং আমরা নতুন প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করতে আগ্রহী।”

বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের পাঁচ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ প্রোগ্রামের আওতায় রয়েছে। তবে এই ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি মুলতবী রয়েছে। আন্তর্জাতিক মাল্টিলেটারাল দাতা প্রতিষ্ঠানটি তখনই ঋণের এই কিস্তি মুক্তি দিতে সম্মত হবে, যখন দেশে নির্বাচিত সরকার কার্যত দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আইএমএফের এই সমর্থন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ঋণ কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক তহবিলের সহযোগিতা দেশের রিজার্ভ ও মুদ্রানীতি সমৃদ্ধ করবে।

নিচের টেবিলে আইএমএফের বাংলাদেশের ঋণ প্রোগ্রামের মূল বিবরণ উপস্থাপন করা হলো:

পর্বঋণের পরিমাণ (বিলিয়ন মার্কিন ডলার)স্থিতি
১ম কিস্তি১.০মুক্তি পেয়েছে
২য় কিস্তি১.০মুক্তি পেয়েছে
৩য় কিস্তি০.৫মুক্তি পেয়েছে
৪র্থ কিস্তি১.০মুক্তি পেয়েছে
৫ম কিস্তি১.০মুক্তি পেয়েছে
৬ষ্ঠ কিস্তি১.০মুলতবী

বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে এই ঋণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, যা দেশের মুদ্রানীতি ও বৈদেশিক বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আইএমএফের এই সমর্থন শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসাবেও গণ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের নতুন প্রশাসন যদি অর্থনৈতিক সংস্কার ও নীতি বাস্তবায়নে সফল হয়, তবে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও বৈদেশিক ঋণের স্থিতিশীলতা আরও দৃঢ় হবে।

মোট কথা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দৃঢ়তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

Leave a Comment