মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। নীতি অনুযায়ী নীতি সুদ হার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ঋণ ও বিনিয়োগের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এখনও বাকি থাকলেও অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকে মুদ্রানীতি ইতিমধ্যেই সাফল্য দেখিয়েছে। আমরা আশা করি সামনের মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে। বৈদেশিক রিজার্ভের অবস্থাও পূর্বের তুলনায় শক্তিশালী।”
জানুয়ারি ২০২৬-এ পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ডিসেম্বরের ৮.২৯ শতাংশের তুলনায় বৃদ্ধি। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ফেব্রুয়ারি মাস এবং রমজানের প্রভাবের কারণে মার্চ মাসেও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা সীমিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত তিন মাস ধরে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) পরামর্শ দিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদ সমন্বয় না করার। নতুন নীতিতে অন্যান্য সুদ হারেও সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন মুদ্রানীতির মূল সূচকসমূহ নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| সূচক | পূর্বের হার | নতুন হার | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| নীতি সুদ (Policy Rate) | ১০% | ১০% | অপরিবর্তিত |
| এসএলএফ (SLF Rate) | ১১.৫% | ১১.৫% | অপরিবর্তিত |
| এসডিএফ (SDF Rate) | ৮% | ৭.৫% | সামান্য হ্রাস |
| বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ (প্রাক্কলন) | ৭.২% | ৮.৫% | ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে |
বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি দ্বৈত অংকে গিয়ে ৯.৫২ শতাংশে পৌঁছালে নীতি সুদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এটি ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছায়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সরকারের পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অগাস্ট ২০২৪ থেকে কঠোর সংকোচনমূলক নীতি কার্যকর করে। ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি কমে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ৮.১৭ শতাংশে নেমে আসে, কিন্তু পরবর্তী তিন মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে জানুয়ারিতে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়ায়।
গভর্নর মনসুর আরও জানান, “সুদহার অপরিবর্তিত রাখার কারণে বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। রেমিটেন্স এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি মূলত বাজারে অর্থ সরবরাহের পরিমাণ, ঋণ প্রবাহ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছয় মাস অন্তর নীতি ঘোষণা করে থাকে, এবং নতুন নীতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।
