বাংলাদেশে মাইক্রোফাইন্যান্স খাতের জন্য নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। আন্তর্বর্তীকালীন সরকার “মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক আইন, ২০২৬” প্রণয়ন করেছে, যা মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক নামে একটি নতুন ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা প্রদান করছে। এই আইনের মাধ্যমে মাইক্রোক্রেডিট খাতকে মূলধারার ব্যাংকিং সিস্টেমের অধীনে আনা হয়েছে, যেখানে আমানত গ্রহণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি এবং সামাজিক ব্যবসার নীতিমালা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
আইনটি মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংককে শুধুমাত্র ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে নয়, অন্যান্য ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকেও আমানত গ্রহণের সুযোগ দেয়। পূর্বে দেশের বেশিরভাগ মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) দাতৃসহায়তা, হোলসেল ঋণ এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) সীমিত তদারকির ওপর নির্ভরশীল ছিল।
আইনটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং খাতের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত। এতে উচ্চতর মূলধন ও নিয়মকানুন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকায় কিছু ছোট এমএফআই-এর জন্য একীকরণ বাধ্যতামূলক হতে পারে। তবে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নিয়মের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পরিচালনার সুবিধা পাবেন।
মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক আইনের মূল বিধানসমূহ
| বৈশিষ্ট্য | বিধান |
|---|---|
| অনুমোদিত মূলধন | ৫০০ কোটি টাকা, ৫ কোটি শেয়ার × ১০০ টাকা |
| ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন | ২০০ কোটি টাকা, যেখানে ≥৬০% ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডার ও বাকি বিনিয়োগকারী সমন্বিত |
| মালিকানা | ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডার ≥৬০% মূলধন অর্জন করবেন |
| সামাজিক ব্যবসার মডেল | বিনিয়োগকারীরা কেবল মূলধন পুনরুদ্ধার করবেন; অতিরিক্ত লাভ সামাজিক তহবিলে যাবে |
| বোর্ড কাঠামো | ১০ সদস্য: ৪ ঋণগ্রহীতা, ৩ অন্যান্য বিনিয়োগকারী, ২ স্বাধীন পরিচালক (বাংলাদেশ ব্যাংক মনোনীত), + ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভোট নয়) |
| ঋণ পরিশোধ নীতি | ১৫ দিনের নোটিশের পর পুনরুদ্ধার; পুনঃসঞ্চালন ও বিকল্প বিরোধ সমাধান; জবরদস্তি নিষিদ্ধ |
| ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সংজ্ঞা | ≤২৫ কর্মী, সম্পদ ≤ ১.৫ কোটি টাকা |
আইনের মাধ্যমে বিশ্বখ্যাত নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই মডেলে মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক মূলত দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বনির্ভরতা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগকে সহায়তা করে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে।
ঋণ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ১৫ দিনের নোটিশ বাধ্যতামূলক। পুনঃসঞ্চালন, পুনঃগঠন বা বিকল্প বিরোধ সমাধান উৎসাহিত করা হবে, জবরদস্তি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। ব্যাংকের অতিরিক্ত লাভ সামাজিক উন্নয়ন তহবিলে বিনিয়োগ করা হবে।
আইনটি মাইক্রোফাইন্যান্স খাতকে আমানত গ্রহণ ও আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় এনে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য একটি টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করবে।
