বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পাঁচ ব্যাংক একীভূত, আইএমএফ তদন্ত করছে

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। এসব ব্যাংকগুলোর অধিকাংশই অতীতে বিতর্কিত আর্থিক তৎপরতার সাথে যুক্ত এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। এই একীভূতকরণের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর একটি প্রতিনিধি দল, যারা বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছে।

আইএমএফ কর্মকর্তারা গতকাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থ বিভাগের সাথে বৈঠক করে ব্যাংক একীভূতকরণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। বিশেষত, তারা জানতে চান, একীভূতকরণের পর ব্যাংকগুলোর মূলধনের যোগান, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার সময়সূচি, এবং কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এসব ব্যাংকের দুর্বলতার মোকাবিলায়। এছাড়া, তারা প্রশ্ন তুলেছে কেন ব্যাংকগুলো অবসায়ন করা হচ্ছে না এবং কেন এখনও ব্যাংক কর্মীরা বেতন ও বোনাস পাচ্ছেন। তাদের মতে, এই দুর্বল ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে এবং এখনই কার্যকর পুনর্গঠন বা অবসায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

এর আগে, গত ৯ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদ পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে একটি নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গঠনের জন্য অনুমোদন দেয়। এই প্রক্রিয়ায় একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। সরকার পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক তৈরি করবে, যার অনুমোদিত মূলধন হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকা হবে পরিশোধিত মূলধন, যা সরকার সরাসরি সহায়তা করবে।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। সরকারী সার্কুলারের খসড়া অনুযায়ী, ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সুরক্ষিত হিসেবে গণ্য করা হবে এবং একীভূতকরণের পরপরই তা ফেরত দেওয়া হবে। আর বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে এটি ছয় কিস্তিতে ফেরত দেওয়া হবে। তাছাড়া, আমানতকারীরা তাঁদের বাকি থাকা ব্যালেন্সের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

নতুন ব্যাংকের জন্য দুটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে: ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। সরকার এই নতুন ব্যাংকের প্রাথমিক মালিকানা রাখবে, তবে তিন বছরের মধ্যে ব্যাংকটি একটি কৌশলগত অংশীদার খুঁজে পাবে এবং পাঁচ বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি বেসরকারি খাতে হস্তান্তরিত হবে।

আইএমএফ প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের স্বাস্থ্য এবং এই ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যত সম্পর্কে গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে, এবং তাদের অভিমত অনুসারে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

Leave a Comment