বাংলাদেশ ব্যাংক দেশীয় ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (মোট ১৭১ মিলিয়ন ডলার) ক্রয় করেছে। এসব ডলারের বিনিময় হার এবং কাট-অফ রেট উভয়ই নির্ধারিত হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সায়। এই ক্রয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংরক্ষণ আরও মজবুত করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে এই ক্রয়সহ মোট ক্রয় দাঁড়ালো ৩৮৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ক্রয় এখন পর্যন্ত ৪,৩২৩ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “আজ আমরা ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার ক্রয় করেছি। এর ফলে ফেব্রুয়ারির জন্য মোট ক্রয় হয়েছে ৩৮৯.৫০ মিলিয়ন ডলার এবং চলতি অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়িয়েছে ৪,৩২৩ মিলিয়ন ডলারে।”
এছাড়া জানুয়ারিতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে ডলার ক্রয় করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
| তারিখ | বাণিজ্যিক ব্যাংক সংখ্যা | ক্রয়কৃত পরিমাণ (মিলিয়ন ডলার) | বিনিময় হার (টাকা) |
|---|---|---|---|
| ৬ জানুয়ারি | ১৪ | ২২৩.৫ | ১২২.৩০ |
| ১২ জানুয়ারি | ১০ | ৮১ | ১২২.৩০ |
| ২০ জানুয়ারি | ২ | ৪৫ | ১২২.৩০ |
| ২৯ জানুয়ারি | ৫ | ৫৫ | ১২২.৩০ |
| ২ ফেব্রুয়ারি | ১৬ | ২১৮.৫ | ১২২.৩০ |
| ৪ ফেব্রুয়ারি | ১৬ | ১৭১ | ১২২.৩০ |
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নিয়মিত ক্রয় নীতি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রপ্তানি ও আমদানি খাতে সহায়ক হওয়া ছাড়াও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ক্রয় প্রক্রিয়া বাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন নিয়মিত ক্রয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করে।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত আরও কিছু ক্রয় হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের অস্থিরতা থেকে রক্ষা করবে। এই প্রক্রিয়ার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ আরও মজবুত হবে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে।
