বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আমানতকারীদের বিক্ষোভ থামছেই না

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে আমানতকারীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি থামছেই না। সুদসহ জমাকৃত অর্থ সম্পূর্ণ ফেরতের দাবিতে একীভূত উদ্যোগে থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের একদল আমানতকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে তারা বিতর্কিত ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিলসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, পাঁচ মার্চ বেলা এগারোটার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা আমানতকারীরা এতে অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্যাংকে রাখা সঞ্চয়ের অর্থ তুলতে না পারায় তারা গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকের পারিবারিক ব্যয়, চিকিৎসা এবং শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সময় শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র চার শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তকে তারা অমানবিক ও অন্যায্য বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার সময় যে চুক্তি হয়েছিল, সেই চুক্তি অনুযায়ী মুনাফাসহ সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা জানান, গত প্রায় দুই বছর ধরে অনেকেই তাদের মূলধন এবং মুনাফা উত্তোলন করতে পারছেন না। ফলে অসংখ্য পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে। কেউ কেউ চিকিৎসা খরচ মেটাতে পারছেন না, আবার অনেকে সন্তানদের শিক্ষাব্যয় চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিকে তারা সাধারণ আমানতকারীদের প্রতি অবিচার হিসেবে বর্ণনা করেন।

তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল, চুক্তি অনুযায়ী দুই হাজার চব্বিশ ও দুই হাজার পঁচিশ সালের মুনাফাসহ সম্পূর্ণ আমানত ফেরত এবং একীভূত ইসলামী ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক করা। পাশাপাশি মেয়াদ শেষে সঞ্চয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থও নির্ধারিত নিয়মে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিচে বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

দাবিবিস্তারিত
প্রথম দাবিআমানতের ওপর আরোপিত মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল
দ্বিতীয় দাবিচুক্তি অনুযায়ী দুই হাজার চব্বিশ ও দুই হাজার পঁচিশ সালের মুনাফাসহ সম্পূর্ণ আমানত ফেরত
তৃতীয় দাবিএকীভূত ইসলামী ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক করা এবং মেয়াদ শেষে সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত

বিক্ষোভকারীরা দ্রুত তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আলটিমেটাম দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী বারো মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোহাম্মদ মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকবে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গভর্নর আরও জানান, অতীত সময়ে এসব ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনের আওতায় আনা হবে। তিন মার্চ গভর্নরের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ব্যাংকিং খাতে জনবিশ্বাসের সংকট আরও গভীর হতে পারে।

Leave a Comment