বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মানসুরের নতুন অর্জন: গ্লোবাল ফাইনান্স ২০২৫-এর র‌্যাংকিংয়ে পুরানো গভর্নরের চেয়ে উন্নতি

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৫:
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মানসুর গ্লোবাল ফাইনান্স ম্যাগাজিনের ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরদের র‌্যাংকিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তিনি এই বছর “C+” গ্রেড অর্জন করেছেন, যা ২০২৩ সালে পূর্ববর্তী গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের দেয়া “D” গ্রেডের তুলনায় উন্নতি।

গ্লোবাল ফাইনান্সের এই র‌্যাংকিং, যা “A+” থেকে “F” স্কেলে মূল্যায়ন করা হয়, গত বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরদের কার্যক্রমের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এই র‌্যাংকিংয়ে গভর্নরদের মূল্যায়ন করা হয়েছে মূলত তাদের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মুদ্রার স্থিতিশীলতা, সুদের হার ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার উপর।

আহসান মানসুরের প্রথম সিদ্ধান্ত এবং তাৎক্ষণিক ফলাফল

গ্লোবাল ফাইনান্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব গ্রহণের পর, আহসান মানসুর তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৯% করেছিলেন, যা পরে পরবর্তী মাসগুলোতে আরও দুটি বৃদ্ধি পেয়ে ১০% এ পৌঁছায়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে, যা ১০.৫% থেকে কমে ৮.৫৫% হয় জুলাই মাসে।

মানসুরের এই কঠোর আর্থিক নীতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উন্নতির পথে রয়েছে। তিনি বলেন, “মুদ্রাস্ফীতি ৫% এর নিচে চলে যাবে এই বছরের শেষ নাগাদ”।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ভূমিকা

গ্লোবাল ফাইনান্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আহসান মানসুর দেশের আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে আইএমএফের সহযোগিতায় তিন বছরের একটি সংস্কার রোডম্যাপ তৈরি করেছেন। এই রোডম্যাপের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের সমন্বয়, অক্ষম ঋণ সমাধান এবং দেউলিয়া ঘোষণা ও পুনর্গঠন আইন সংস্কার।

তিনি আরও যোগ করেছেন, “এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরায় তরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে।”

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ এবং বৈশ্বিক র‌্যাংকিং

দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর নন্দলাল উইরাসিংহে “A” গ্রেড পেয়েছেন, যা অঞ্চলের সেরা। পাকিস্তানের গভর্নর জামিল আহমদ পেয়েছেন “B-” এবং ভারতের সঞ্জয় মালহোত্রা এবং নেপালের বিস্বো নাথ পাউদেল “TETS” (Too Early To Say) হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী, ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভিয়েতনামের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নররা “A+” গ্রেড অর্জন করেছেন।

২০২৪ সালের প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের প্রতিবেদনে, আহসান মানসুরের গ্রেড ছিল “TETS”, কারণ সে সময় বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের কারণে দেশটি রাজনৈতিক সঙ্কটে পতিত হয়েছিল, এবং সেই প্রেক্ষাপটে মুদ্রাস্ফীতির হার ১১.৬৬% এ পৌঁছায়।

গ্লোবাল ফাইনান্স জানিয়েছে, “এ পরিস্থিতিতে মানসুর প্রথমেই ৯% রেপো রেট বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যা পরবর্তীতে ১০% এ পৌঁছায়।”

উপসংহার

অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও আহসান মানসুরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক এক নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি কঠোর নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন। ২০২৫ সালে তার অর্জিত “C+” গ্রেড দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পুনর্গঠন ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment