বাংলাদেশের বৈদেশিক প্রতিযোগিতা পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক, বাস্তব কার্যকরী বিনিময় হার (REER), এবার বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা প্রতিফলিত করতে পুনঃনির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই সংস্করণে প্রথমবারের মতো প্রবাসী আয়ের রেমিট্যান্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রেরিত আয়গুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তুলে ধরে। এছাড়াও, সূচকের ভিত্তি বছর পরিবর্তন করে ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২৪ করা হয়েছে, যা গত দশকে বাণিজ্য ধারা, মূল্যস্ফীতি এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিময় হারের পরিবর্তনগুলোকে প্রতিফলিত করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “পূর্বের গণনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অনুপস্থিত বা কম ওজনযুক্ত ছিল। নতুন পদ্ধতিতে ওজনগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে, যাতে টাকার মূল্যায়ন বাস্তবধর্মী ও ব্যবহারযোগ্য হয়।”
নতুন REER ব্যাস্কেট দেশের বাণিজ্য ভূগোলেও পরিবর্তন প্রতিফলিত করছে। চীন এখন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার, যা পূর্বে ভারতের স্থান দখল করেছিল। এক মধ্যপ্রাচ্যের দেশকে ব্যাস্কেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেহেতু তার বাণিজ্য শেয়ার ১ শতাংশের নিচে নেমেছে। নতুন ব্যাস্কেটে ১৭টি মুদ্রা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি কভার করে।
REER ব্যাস্কেটের মূল পরিবর্তন
| বিষয় | পূর্বের ভিত্তি বছর (২০১৫-১৬) | নতুন ভিত্তি বছর (২০২৩-২৪) |
|---|---|---|
| ভিত্তি বছর | ২০১৫-১৬ | ২০২৩-২৪ |
| রেমিট্যান্স অন্তর্ভুক্তি | নেই | রয়েছে |
| সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার | ভারত | চীন |
| মুদ্রার সংখ্যা | ১৭ | ১৭ |
| বাণিজ্য কভারেজ | ≈৮৫% মোট বাণিজ্য | ≈৮৫% মোট বাণিজ্য |
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে নতুন ভিত্তি বছর এবং পদ্ধতি অনুযায়ী REER গণনা কার্যকর করবে। নতুন ভিত্তি বছর হিসেবে ২০২৩-২৪ বেছে নেওয়া হয়েছে যাতে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা আরও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় এবং তথ্যবৈষম্য কম থাকে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সময়ের সঙ্গে REER ভিত্তি বছর পরিবর্তন করে থাকে। পাকিস্তান ও ভারত বর্তমানে ২০১৫-১৬ সালকে তাদের ভিত্তি বছর হিসেবে ব্যবহার করছে।
REER সূচক মুদ্রার বৈদেশিক প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। ১০০-এর বেশি মান হলে স্থানীয় মুদ্রা অতিমূল্যায়িত, যা রফতানিকে প্রভাবিত করতে পারে, আর ১০০-এর কম মান নির্দেশ করে মুদ্রার নিমূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী প্রতিযোগিতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৫ সালে বাংলাদেশের REER ১০৬-এর উপরে ছিল, যা নির্দেশ করে যে টাকা এখনও কিছুটা অতিমূল্যায়িত।
