বাংলাদেশ ব্যাংক রমজান পণ্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি রোধে আমদানি নীতিমালা শিথিল করেছে

রমজান মাসে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দশটি গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা পণ্যের আমদানি শর্ত শিথিল করেছে। নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে এবং এটি ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

১১ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং বিধিমালা ও নীতি বিভাগের প্রকাশিত একটি সার্কুলারে জানানো হয়েছে যে, সব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চাল, গম, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা এবং খেজুরের আমদানিতে নগদ মার্জিন কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমানো মার্জিন শুধুমাত্র ব্যাংক-বিনিয়োগকারী সম্পর্কের ভিত্তিতে এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) খোলার সময় প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তটি রমজান মাসে সাধারণত এই পণ্যের চাহিদা বাড়ানোর প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগে শুরু হতে পারে। নগদ মার্জিনের শিথিলতার মাধ্যমে, বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে যে আমদানি প্রক্রিয়া আরো মসৃণ হবে, বাজারের সরবরাহ বজায় থাকবে এবং দাম মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে।

এর আগে, রমজান সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের জন্য ১০০% নগদ মার্জিন রাখার বিধান ছিল। তবে বাজার পরিস্থিতি পরিবর্তিত হওয়ায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নিয়মে নমনীয়তা এনে ব্যাংক-বিনিয়োগকারী সম্পর্কের ভিত্তিতে মার্জিন নির্ধারণ করেছিল, যা চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে এই পণ্যের এলসি প্রক্রিয়াকরণকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে, যাতে সরবরাহ চেইন আরো মসৃণভাবে চলতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের ঘাটতি রোধ করা যায়।

এই পদক্ষেপটি দেশের মুসলিম জনগণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সময়সূচী রমজান মাসে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে, এবং নিশ্চিত করবে যে প্রয়োজনীয় পণ্যসমূহ সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যেও পাওয়া যাবে।

Leave a Comment