বাংলাদেশ ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজ বন্ড বিক্রি বন্ধ করছে

বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) তাদের দীর্ঘদিনের পাঁচটি জনসেবা কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি, প্রাইজ বন্ড বিক্রি, ক্ষতিগ্রস্ত নোট বদল, ট্রেজারি চালান গ্রহণ এবং চালানের বিপরীতে খুচরা টাকা প্রদান। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব কাজ মূলত তাদের নীতিনির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রক ভূমিকার বাইরে চলে যায়, তাই ধীরে ধীরে এসব সেবা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

বিবি ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়কে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে জনসাধারণের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর থেকে এসব সেবা আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া যাবে না। তখন থেকে গ্রাহকদের বাধ্যতামূলকভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখার ওপর নির্ভর করতে হবে।

দশকের পর দশক মানুষ রাজধানীর মতিঝিল কার্যালয়সহ বিভিন্ন বিভাগীয় শাখায় গিয়ে সঞ্চয়পত্র সংগ্রহ, প্রাইজ বন্ড কেনা, নোট বদল কিংবা বিভিন্ন সরকারি ফি-চালান জমা দিতেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব ঐতিহ্যবাহী কার্যক্রম পুরোপুরি বাণিজ্যিক ব্যাংকের হাতে চলে যাবে।

বিবির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, এসব কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ন্যূনতম দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে না। বিশ্বের অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকই জনগণের সঙ্গে সরাসরি সেবা প্রদান কমিয়ে নীতি-নির্ধারণ, মুদ্রানীতি প্রণয়ন এবং আর্থিক খাত তদারকিতেই মনোযোগ দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে তিনি বলেন, পোড়া বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত নোট বিনিময়ের সেবা বিবি-তেই চালু থাকবে, কারণ এই কাজটি জটিল এবং এর জন্য বিশেষ নিয়ন্ত্রক বিধান অনুসরণ করতে হয়।

মতিঝিল কার্যালয়ের ১৬টি কাউন্টারে কয়েকটি সেবা চালু থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েন বদল, স্মারক মুদ্রা বিক্রি, ছেঁড়া নোট সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং কিছু ব্যাংকিং লেনদেন। এসব সেবা বিশেষ যাচাই-প্রক্রিয়া বা কেন্দ্রীয় নজরদারি প্রয়োজন বলে এগুলো বন্ধ করা হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সদ্য দায়িত্ব নেওয়া গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকটিকে তার মূল দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে এবং অপ্রয়োজনীয় সেবা ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে স্থানান্তর করতে কাজ করছেন। তিনি এ-সংক্রান্ত একটি ধাপে ধাপে সেবা প্রত্যাহার পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশের অন্যান্য বিভাগে অবস্থিত বিবির শাখাগুলোতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে কর্মকর্তারা জানান। তাদের মতে, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ কমানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সেবা-দক্ষতা বাড়ানো।

পরিবর্তনটি জনসাধারণের জন্য বড় রকমের রূপান্তর বয়ে আনবে, বিশেষ করে প্রবীণ ও দীর্ঘদিন ধরে বিবির সেবা গ্রহীতাদের জন্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে দ্রুত প্রস্তুত হতে হবে যাতে গ্রাহকদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়া যায় এবং সেবা বিঘ্ন ছাড়াই নতুন ব্যবস্থায় রূপান্তর সম্পন্ন হয়।

Leave a Comment