বাংলাদেশ ব্যাংক ডিসেম্বর মাসে ২,৫০০ কোটি টাকার সপ্তম সুকুক ইস্যু করতে যাচ্ছে, যা নোয়াখালী, ফেনী এবং লক্ষ্মীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (IRIDPNFL) এর জন্য ব্যবহার করা হবে। এই উদ্যোগটি দেশের পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়নের পাশাপাশি শারিয়াহ ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করার একটি প্রচেষ্টা।
সুকুক একটি ইসলামিক বিকল্প যা সাধারণত কনভেনশনাল বন্ডের তুলনায় ভিন্ন। সুকুক এমনভাবে কাঠামোবদ্ধ করা হয় যাতে বিনিয়োগকারীরা সঞ্চিত অর্থের উপর সুদ না পেয়ে বাস্তব সম্পদ বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মুনাফা অর্জন করতে পারেন। এই মুনাফা সাধারণত ভাড়া বা মুনাফা-বিভাগের মাধ্যমে আসে, যা ইসলামিক ফিন্যান্সের নীতি অনুসারে বৈধ।
একটি সাধারণ বন্ডের মধ্যে, ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের থেকে অর্থ ধার করে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সুদ প্রদান করে। কিন্তু সুকুকের ক্ষেত্রে, অর্থায়ন বাস্তব সম্পদ বা প্রকল্পগুলোর জন্য করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যখন বাংলাদেশ ব্যাংক সুকুক ইস্যু করে পাবলিক ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের জন্য, তখন সেই অর্থ ব্যবহৃত হয় সড়ক, বাজার এবং পানি সিস্টেমের মতো অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। বিনিয়োগকারীরা তখন এই সম্পদ থেকে মুনাফা অর্জন করেন, যেমন ইজারা পদ্ধতিতে ভাড়া পরিশোধ।
সুকুকের বিভিন্ন কাঠামো রয়েছে, যা প্রকল্পের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। ইজারা মডেলে, সম্পদটি ভাড়া দেয়া হয় এবং এর থেকে পাওয়া ভাড়া বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, ইস্তিসনা মডেলে, একটি সম্পদ নির্মিত হয় এবং পরে তা হস্তান্তর করা হয়, যার মাধ্যমে মুনাফা অর্জিত হয়।
এভাবে, সুকুক নিশ্চিত করে যে বিনিয়োগটি বাস্তব অর্থনৈতিক মূল্য এবং উৎপাদনশীল কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকে।
শরীয়াহ-মেনে চলে এমন ব্যাংকগুলো আগে সরকারি ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারত না, কারণ এসব যন্ত্র সুদভিত্তিক। এর ফলে এসব ব্যাংকে জমে থাকা অর্থ অনেক সময় অকার্যকর হয়ে থাকত। এই পরিস্থিতিতে, সরকার ২০২০ সালে “বাংলাদেশ সরকার ইনভেস্টমেন্ট সুকুক” চালু করে, যাতে ইসলামিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করতে পারে।
সুকুক সাহায্য করে ইসলামিক আর্থিক চর্চা এবং পাবলিক অবকাঠামো ফিন্যান্সিংয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে, এবং এটি দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এই নতুন সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে দেশের ৭ম সরকারী সুকুক ইস্যু করবে, যা পূর্ববর্তী ছয়টি সুকুকের পরিমাণ যোগ করলে মোট ২৪,০০০ কোটি টাকা হয়ে দাঁড়াবে। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে শারিয়াহ ভিত্তিক আর্থিক যন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
