দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয়ের স্বার্থ রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ডলার কেনার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে নিলামের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ১৪ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, বাজারে বর্তমানে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেড়ে গেছে। ফলে বিনিময় হার যাতে অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায় এবং রপ্তানি আয়ের প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো বজায় থাকে, সে কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে।
ডলার কেনার পদ্ধতি ও দর
সর্বশেষ ডলার কেনা হয়েছে ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে। এদিন প্রতি ডলারের দর ছিল—
১২২ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা
এই নিলামে দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক অংশ নেয় এবং সেখান থেকেই ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জুলাই–ডিসেম্বর পর্যন্ত ডলার ক্রয়ের পরিমাণ
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডলার কেনার উদ্যোগ শুরু করে। সর্বশেষ ক্রয়সহ এ পর্যন্ত মোট কেনা হয়েছে ২৬৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার—যা সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম বৃহৎ হস্তক্ষেপ।
নিচের টেবিলটি গত কয়েক মাসে ডলার কেনার সময়, পরিমাণ ও দর সম্পর্কে সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছে:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ডলার ক্রয় (জুলাই–ডিসেম্বর)
| তারিখ | ব্যাংকের সংখ্যা | ক্রয়কৃত ডলার (কোটি) | প্রতি ডলারের দর (টাকা) | পদ্ধতি |
|---|---|---|---|---|
| ১৩ জুলাই | ১৮ | ১৭.১০ | ১২১.৫০ | নিলাম |
| ১৫ জুলাই | ১৮ | ৩১.৩০ | ১২১.৫০ | নিলাম |
| ২৩ জুলাই | — | ১.০০ | ১২১.৯৫ | নিলাম |
| আগস্ট (৭, ১০, ১৪, ২৮) | — | উল্লেখযোগ্য পরিমাণ | বিভিন্ন | নিলাম |
| সেপ্টেম্বর (২, ৪, ৯, ১৫, ২২) | — | উল্লেখযোগ্য | বিভিন্ন | নিলাম |
| অক্টোবর (৬, ৯, ২৪) | — | উল্লেখযোগ্য | বিভিন্ন | নিলাম |
| ৯ ডিসেম্বর | — | উল্লেখযোগ্য | বিভিন্ন | নিলাম |
| ১১ ডিসেম্বর | ১৬ | ১৪.৯০ | ১২২.২৫–১২২.২৯ | মাল্টিপল প্রাইস অকশন |
কেন ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের মতে—
বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ডলারের দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রপ্তানিকারকরা যাতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য স্থিতিশীল মূল্য বজায় রাখা জরুরি।
প্রবাসী আয়ের কাঙ্ক্ষিত হার নিশ্চিত করতে বাজারে ভারসাম্য রক্ষা প্রয়োজন।
ডলার কেনার এই পদক্ষেপ মুদ্রাবাজারে একটি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতেও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার কেনা–বেচা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
