বিদেশ যাওয়ার টিকিটে আর অতিরিক্ত দাম নয়! বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তে চমক

দেশের বিমান ভ্রমণ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এক গুরুত্বপূর্ণ নীতি পরিবর্তন ঘোষণা করেছে। নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশে বসবাসকারী নাগরিকরা এখন দেশের ভেতরে পরিচালিত বিদেশি এয়ারলাইন্সের আউটবাউন্ড বা আন্তর্জাতিক গন্তব্যের টিকিট তাদের আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করেই কিনতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হওয়া মূল্য বৈষম্য ও জটিলতা কমাতে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বহু বছর ধরে বিদেশগামী যাত্রীরা ন্যায্য মূল্যে টিকিট কিনতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। বেশিরভাগ বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশি ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত কার্ড গ্রহণ করত না। ফলে যাত্রীদের নগদ টাকা, ট্রাভেল এজেন্ট বা বিদেশি ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করতে হত—যা উচ্চমূল্য, স্বচ্ছতার অভাব ও ঝামেলাপূর্ণ বুকিং প্রক্রিয়ার জন্ম দিত। নতুন নীতিটি এই বাধাগুলো দূর করে দেশের টিকিটিং ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈধ ভিসাধারী যে কোনো বাংলাদেশি এখন আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে দেশের ভেতরে পরিচালিত যেকোনো বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট কিনতে পারবেন। জনপ্রিয় ঢাকা–সিঙ্গাপুর, ঢাকা–দুবাইসহ সব আন্তর্জাতিক রুটেই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে আন্তর্জাতিক কার্ড ভ্রমণ-সংক্রান্ত খরচে ব্যবহার করা গেলেও তা সীমাবদ্ধ ছিল বিদেশে ব্যয়ের ক্ষেত্রে। দেশের ভেতর টিকিট কেনার ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সেটেলমেন্টের সুযোগ না থাকায় অনেক সময় টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেত।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব টিকিট বিক্রির অর্থ অবশ্যই অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ট্রাভেল কার্ডে টিকিট কেনায় যে অর্থ ব্যয় হবে, তা সমপরিমাণ পর্যন্ত পুনরায় রিফিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে—তবে AD ব্যাংক বিক্রয় অর্থ পুরোপুরি বুঝে পাওয়ার পরই রিফিল করা যাবে।

বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, তারা চাইলে টিকিট বিক্রির অর্থ বাংলাদেশে অবস্থিত FX বা বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে রাখতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এখান থেকে বিদেশে উদ্বৃত্ত অর্থ পাঠানো যাবে, টাকায় রূপান্তর করার বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

বিমান পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নীতি পরিবর্তন দেশীয় টিকিটিং ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাবে, স্থানীয় ও বিদেশি টিকিট মূল্যের পার্থক্য কমাবে এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আদান-প্রদান আরও সুশৃঙ্খল করবে।

Leave a Comment