দেশের বিমা খাতে আমূল পরিবর্তন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিমা কোম্পানিগুলোকে সম্পূর্ণ নগদবিহীন বা ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিমা খাতের ওপর গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং একে একটি প্রকৃত উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তর করতে ডিজিটাইজেশনের কোনো বিকল্প নেই।
Table of Contents
ডিজিটাল ম্যানুয়াল ও নতুন ওয়েবসাইটের উদ্বোধন
সম্প্রতি ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA) কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আইডিআরএ-র নতুন উন্নত ওয়েবসাইট এবং আধুনিক ‘ডিজিটাল বিমা ম্যানুয়াল’-এর আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। এই ম্যানুয়ালের মাধ্যমে বিমা সংক্রান্ত আইন, বিধি-বিধান এবং সকল প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের জন্য সহজবোধ্য ও উন্মুক্ত করা হয়েছে।
গভর্নরের মূল বার্তা ও নির্দেশনা
গভর্নর তার বক্তব্যে বিমা খাতের বর্তমান স্থবিরতা এবং গ্রাহক অসন্তোষের কারণগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিমা কোম্পানিগুলো অনেক সময় স্বল্পমেয়াদী মুনাফার আশায় ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিমা নিয়ে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ও অংশগ্রহণকারীদের তথ্য নিচে টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রধান অতিথি | ড. আহসান এইচ মনসুর, গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক |
| সভাপতি | এম আসলাম আলম, চেয়ারম্যান, আইডিআরএ |
| বিশেষ আয়োজন | নতুন ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল বিমা ম্যানুয়াল উন্মোচন |
| প্রধান প্রস্তাবনা | প্রিমিয়াম সংগ্রহ ও দাবি পরিশোধে ক্যাশলেস পদ্ধতি চালু |
| সহযোগী সংস্থা | বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (BIA) ও ইনস্যুরেন্স ফোরাম (BIF) |
বিমা খাতে ডিজিটাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “বিমা প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে হওয়া উচিত। যদি আমরা নগদ লেনদেন কমাতে পারি, তবে জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং বিমা কোম্পানিগুলোর হিসাব পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আসবে।” তিনি আরও জানান যে, এই ক্যাশলেস পদ্ধতি বাস্তবায়নে আইডিআরএ প্রয়োজনীয় নীতিমালা বা গাইডলাইন তৈরি করবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সব ধরনের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী সহায়তা দেবে।
সুশাসন ও তহবিল ব্যবস্থাপনা
বিমা কোম্পানিগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে গভর্নর বলেন, প্রিমিয়াম সংগ্রহ করা হলেও অনেক সময় গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধ করা সম্ভব হয় না কারণ পর্যাপ্ত তহবিল থাকে না। এই সংকটের জন্য তিনি দায়হীন বিনিয়োগ এবং সুশাসনের অভাবকে দায়ী করেন। তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন, সুশাসন সংক্রান্ত শর্তগুলো পালন না করলে বিমা খাত বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না।
বাজার সম্প্রসারণ ও জিডিপিতে অবদান
আইডিআরএ-র চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বিমা খাত বড় ধরনের সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই খাতকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি সংস্কারগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন না হয়, তবে সমস্যাগুলো আরও জটিল আকার ধারণ করবে। গভর্নর আরও যোগ করেন যে, বিমা খাতের পরিধি না বাড়লে দেশের জিডিপি (GDP) বা মোট দেশজ উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছানো কঠিন হবে।
পরিশেষে, বিমা খাতের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগ এই শিল্পকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
