বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় ইবিএলের সহায়তা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের উন্নয়নে অবকাঠামোগত সহায়তা জোরদার করতে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি এবং প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশন যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে, যা দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজধানী ঢাকায় ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার প্রতীকী চেক প্রয়াস ইনস্টিটিউটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইস্টার্ন ব্যাংকের যোগাযোগ ও বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল করিম এই চেক হস্তান্তর করেন। প্রয়াস ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও অধ্যক্ষ কর্নেল মোহাম্মদ আলতাফ আলী তা গ্রহণ করেন।

প্রয়াস ইনস্টিটিউট একটি অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং সেনাবাহিনী প্রধানের দিকনির্দেশনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সার্বিক বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম, থেরাপি সেবা এবং নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা কেবল মানবিক দায়বদ্ধতাই নয়, বরং একটি টেকসই সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। এ ধরনের শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো, প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় থেরাপি সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারা সমাজের সক্রিয় ও উৎপাদনশীল সদস্যে পরিণত হতে পারে।

জিয়াউল করিম তার বক্তব্যে বলেন, প্রয়াস ইনস্টিটিউট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য থেরাপি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের সমাজে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। এতে শুধু শিশুরাই নয়, তাদের পরিবারও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পায়। তিনি এ উদ্যোগে যুক্ত হতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে কর্নেল মোহাম্মদ আলতাফ আলী বলেন, ইস্টার্ন ব্যাংকের উদার সহায়তায় প্রয়াস ইনস্টিটিউট তার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে পারবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। তিনি একটি সহমর্মী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে এ ধরনের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রয়াস ইনস্টিটিউট ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

নিচে উদ্যোগটির প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
উদ্যোগের ধরনকৌশলগত অংশীদারিত্ব
সহযোগী প্রতিষ্ঠানইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি ও প্রয়াস ইনস্টিটিউট
লক্ষ্যবিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও উন্নয়ন
প্রধান সহায়তাঅবকাঠামো উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা
কার্যক্রমশিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, থেরাপি, সহশিক্ষা
প্রত্যাশিত ফলসামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সামাজিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment