আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের নাম ও লোগো ব্যবহার করে বাংলাদেশে এক শ্রেণির অসাধু চক্র অভিনব কায়দায় ঋণ জালিয়াতি শুরু করেছে। সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সাধারণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা রক্ষার্থে এবং প্রতারণা থেকে বাঁচাতে বিশ্বব্যাংক এক বিশেষ বিবৃতিতে সকলকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
জালিয়াতির পদ্ধতি ও প্রতারক চক্রের কৌশল
বিশ্বব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পেজ খুলে নিজেদের বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করছে। তারা উন্নত জীবন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ঋণের বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে। এরপর লোন প্রসেসিং ফি, ইন্স্যুরেন্স বা সার্ভিস চার্জের অজুহাতে মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ হাতিয়ে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও নকল নথি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা করে।
বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক স্পষ্টভাবে তিনটি মূল বিষয় নিশ্চিত করেছে:
১. বিশ্বব্যাংক কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ব্যক্তিগত বা ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে না।
২. তারা কখনোই সাধারণ মানুষের কাছে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য (যেমন এনআইডি বা ব্যাংক পাসওয়ার্ড) চায় না।
৩. ঋণের বিনিময়ে কোনো ধরনের ফি বা চার্জ সরাসরি গ্রহণ করার কোনো বিধান সংস্থাটির নেই।
নিচে এই লোন স্ক্যাম বা ঋণ জালিয়াতি থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায়সমূহ সারণি আকারে দেওয়া হলো:
বিশ্বব্যাংক লোন স্ক্যাম: ঝুঁকি ও সুরক্ষার নির্দেশিকা
| বিষয়ের ক্ষেত্র | জালিয়াতির ধরণ ও মাধ্যম | নিরাপদ থাকার উপায় |
| প্রচারণার মাধ্যম | ভুয়া ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইল। | যেকোনো তথ্যের জন্য কেবল অফিশিয়াল সাইট অনুসরণ করুন। |
| আর্থিক লেনদেন | বিকাশ, নগদ বা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। | অপরিচিত কারো অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাবেন না। |
| ব্যক্তিগত তথ্য | ব্যাংক ডিটেইলস বা ওটিপি (OTP) চাওয়া। | ব্যক্তিগত গোপন তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকুন। |
| ভুয়া পরিচয় | সংস্থার লোগো ব্যবহার করে ভুয়া এজেন্ট সাজা। | মনে রাখবেন, বিশ্বব্যাংক ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করে না। |
| আইনি প্রতিকার | জালিয়াতির শিকার হওয়া। | দ্রুত নিকটস্থ থানা বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে জানান। |
জনসচেতনতা ও আইনি পরামর্শ
বিশ্বব্যাংক তাদের বিবৃতিতে জনসাধারণকে সতর্ক করে বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি বিশ্বব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ততার দাবি করে ঋণের প্রস্তাব দেয়, তবে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক। এই ধরনের প্রলোভনে সাড়া না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংস্থাটি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তাদের নাম ব্যবহার করে চালানো এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে এই ধরণের চৌর্যবৃত্তি চালানো হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকরা যদি এমন কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের সম্মুখীন হন, তবে যেন অবিলম্বে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিষয়টি অবহিত করেন। মূলত বিভিন্ন দেশের সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অংশীদার হওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ে ঋণ দেওয়াই বিশ্বব্যাংকের কাজ; সরাসরি সাধারণ জনগণের সাথে কোনো আর্থিক লেনদেনে তারা জড়িত হয় না।
