বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান, তা দেশের আর্থিক প্রবাহে সরাসরি প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনও দেশের মুদ্রা বাজারকে প্রভাবিত করে। ফলে, প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার জানা ব্যবসায়ীরা, রেমিট্যান্স প্রেরক ও প্রাপক সকলের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মুদ্রা বাজারে প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় হার সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন ডলারের (USD) ক্রয়-বিক্রয় দাম উভয়ই প্রতি ১২২.৩০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। ইউরোর (EUR) ক্ষেত্রে ক্রয় দাম ১৪৫.১৩ টাকা এবং বিক্রয় দাম ১৪৫.১৭ টাকা। ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) ক্রয় দাম ১৬৬.৯১ টাকা, বিক্রয় দাম ১৬৬.৯৫ টাকা। জাপানি ইয়েন (JPY) ও ভারতীয় রুপি (INR) এর হারের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা স্থানীয় মুদ্রা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশের টাকার বিনিময় হারকে দ্রুত পরিবর্তনশীল রাখে। তাই প্রবাসী বা ব্যবসায়ীরা যখন টাকা পাঠান বা বৈদেশিক লেনদেন করেন, সর্বশেষ হারের প্রতি সতর্ক থাকা অপরিহার্য।
নীচে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয়-বিক্রয় হার সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলো:
| মুদ্রা | ক্রয় (টাকা) | বিক্রয় (টাকা) |
|---|---|---|
| ইউএস ডলার (USD) | ১২২.৩০ | ১২২.৩০ |
| ইউরো (EUR) | ১৪৫.১৩ | ১৪৫.১৭ |
| পাউন্ড (GBP) | ১৬৬.৯১ | ১৬৬.৯৫ |
| জাপানি ইয়েন (JPY) | ০.৮০ | ০.৮০ |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) | ৮৬.৫০ | ৮৬.৫৫ |
| সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) | ৯৬.৮০ | ৯৬.৯৭ |
| কানাডিয়ান ডলার (CAD) | ৮৯.৮০ | ৮৯.৮১ |
| ভারতীয় রুপি (INR) | ১.৩৫ | ১.৩৫ |
| সৌদি রিয়েল (SAR) | ৩২.৬১ | ৩২.৫০ |
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ডের স্থিতিশীলতা বাজারে লেনদেনের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইউরো, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ও সিঙ্গাপুর ডলারের সামান্য পার্থক্য প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রতিদিনের বৈদেশিক লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, মুদ্রার বিনিময় হার জানা ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত আর্থিক সিদ্ধান্তকে আরও কার্যকর করে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণকারীরা এই তথ্যের ওপর নির্ভর করে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ড সুচারুভাবে পরিচালনা করতে পারেন।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, বর্তমান মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা এবং সামান্য ওঠানামা—উভয়ই প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দেশক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হারের তথ্যের প্রতি সচেতনতা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও সুনির্দিষ্ট করে তোলে।
