বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন প্রভিশনিং নিয়ম চালু হচ্ছে, যা ব্যাংকগুলিকে সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতি আগেভাগেই হিসাব করার জন্য বাধ্য করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যথাযথ প্রভিশন নির্ধারণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) সম্প্রতি আন্তর্জাতিক আর্থিক রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (IFRS) অনুযায়ী IFRS 9 ভিত্তিক Expected Credit Loss (ECL) ফ্রেমওয়ার্ক চালু করার নির্দেশনা দিয়েছে। এটির মূল উদ্দেশ্য দেশের ব্যাংকিং খাতকে আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা।
বিবির নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন প্রভিশনিং কাঠামো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সকল শিডিউলড ব্যাংকে প্রযোজ্য হবে। প্রথম ধাপে এটি তহবিলযুক্ত ও অ-তহবিলযুক্ত ঋণ সুবিধার জন্য কার্যকর হবে। পরবর্তীতে, ২০২৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অন্যান্য আর্থিক যন্ত্রের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে ব্যাংকগুলি BRPD Circular No. 15 of 2024 অনুযায়ী ঋণ শ্রেণিবিন্যাস ও প্রভিশন নির্ধারণ করছে, যা মূলত incurred-loss মডেলের উপর ভিত্তি করে। নতুন কাঠামোতে ব্যাংকগুলি forward-looking Expected Credit Loss মডেল গ্রহণ করবে, যেখানে সম্ভাব্য ক্ষতি আগেভাগে হিসাব করা হবে।
একজন বিবি কর্মকর্তা জানান, এই পরিবর্তন বর্তমান incurred-loss পদ্ধতির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগের মতো ঋণ সমস্যায় পড়ার পর প্রভিশন না করে, নতুন সিস্টেমে ব্যাংককে অর্থনৈতিক সূচক যেমন GDP বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার বিবেচনা করে সম্ভাব্য ক্ষতি পূর্বানুমান করতে হবে।
IFRS 9 অনুযায়ী ঋণ এক্সপোজার তিনটি ধাপে ভাগ হবে:
| ধাপ | ঋণ শ্রেণি | প্রভিশন গণনার পদ্ধতি |
|---|---|---|
| 1 | Performing loans | ১২ মাসের Expected Credit Loss |
| 2 | Significant risk increase | লাইফটাইম Expected Credit Loss |
| 3 | Credit-impaired loans | লাইফটাইম প্রভিশন |
নতুন কাঠামোতে ব্যালেন্স-শীটের বাইরে থাকা এক্সপোজার যেমন ঋণ কমিটমেন্ট, গ্যারান্টি ও অপ্রয়োগকৃত ক্রেডিট লাইনও প্রভিশনিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া, সুদের আয়ের স্বীকৃতি ঋণ ধাপের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে, যা ব্যাংকের সম্পদ মান এবং আয়ের প্রতিফলন আরও সঠিক করবে।
ব্যাংকগুলিকে ডেটা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও রিস্ক-মডেলিং সিস্টেম উন্নত করতে হবে, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত তদারকি ও নির্দেশনা প্রদান করবে।
NRBC ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মোঃ তৌহিদুল আলম খান, FCMA, বলেন, “IFRS 9 ও ECL ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু নিয়মকানুনের পরিবর্তন নয়, বরং ব্যাংকের আর্থিক সুস্থতা, বিনিয়োগকারীর আস্থা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “যাত্রাটি চ্যালেঞ্জসাপন্ন হলেও দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা যেমন স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা এবং গভীর বিশ্বাস অমূল্য।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সফল বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলিতে পরিকল্পনা, শক্তিশালী অবকাঠামো এবং দক্ষতা উন্নয়নে পূর্ণ মনোযোগ প্রয়োজন।
এই নতুন কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকিং খাত আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে, আরও প্রতিযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
