ব্যাংক ভাড়ার নতুন নীতিমালা: সর্বোচ্চ বর্গফুট হার নির্ধারণ

দেশের ব্যাংকিং খাতের পরিচালনা ব্যয় সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর শাখা ও উপশাখা স্থাপনের ভাড়ার ক্ষেত্রে নতুন এক যুগান্তকারী নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর দাবির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অঞ্চলভেদে ভাড়ার একটি সর্বোচ্চ সীমা বা ‘সিলিং’ নির্ধারণ করে দিয়েছে। ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি জানানো হয়।

নতুন নীতিমালার মূল বৈশিষ্ট্য ও শর্তাবলি

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো এখন থেকে নির্ধারিত ভাড়ার সীমার মধ্যে থাকলে নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে নতুন ভবন ভাড়া বা চুক্তি নবায়ন করতে পারবে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম দ্রুততর হবে। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে:

১. স্বার্থসংশ্লিষ্টতা: যদি ভবনের মালিক ব্যাংকের কোনো পরিচালক বা তাদের পরিবারের সদস্য হন, তবে ভাড়ার পরিমাণ যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে।

২. স্থানান্তর ও প্রধান কার্যালয়: চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শাখা স্থানান্তর অথবা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও নিয়ন্ত্রণাধীন বিভাগগুলোর জন্য নতুন স্থাপনা ভাড়ার ক্ষেত্রেও আগের মতোই অনুমোদন লাগবে।

৩. অতিরিক্ত ভাড়া: যদি কোনো কৌশলগত কারণে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ভাড়ায় ভবন নিতে হয়, তবে তার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে।

অঞ্চলভেদে ভাড়ার সর্বোচ্চ হার (প্রতি বর্গফুট)

কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বিভাগীয় শহর, পৌরসভা এবং গ্রামীণ এলাকার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ার হার নির্ধারণ করেছে। নিচে এর একটি তুলনামূলক সারণী দেওয়া হলো:

বিভাগীয় শহর/অঞ্চলসিটি করপোরেশন এলাকা (টাকা)‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা (টাকা)পল্লি বা গ্রামীণ এলাকা (টাকা)
ঢাকা১০৪২৮২৪
চট্টগ্রাম৬১২৭২০
সিলেট৪০২২১৬
বরিশাল৪৮২০১৪
রংপুর৪৫১৭১৩
রাজশাহী৩৪২৫১৩
খুলনা৩৪২১১৩
ময়মনসিংহ৩৬১৯১৪

প্রেক্ষাপট ও ব্যাংকারদের প্রতিক্রিয়া

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংকসহ বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয় বা নতুন শাখা স্থাপনের জন্য প্রায় নয় মাস আগে আবেদন করে রেখেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় অনেক ভবন মালিক অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে জায়গা ভাড়া দিয়ে দেন। এতে ব্যাংকগুলো কৌশলগত অবস্থানে পিছিয়ে পড়ছিল এবং তাদের ব্যবসার গতি মন্থর হয়ে আসছিল।

এবিবির নেতারা সম্প্রতি নতুন গভর্নরের সাথে এক বৈঠকে এই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটানোর দাবি জানান। তাদের মতে, ভবন ও ফ্লোরের অবস্থান এবং স্থাপনার মান বিবেচনা করে ভাড়ার হার সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করার ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা উচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন প্রজ্ঞাপন ব্যাংকগুলোর অপারেশনাল খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নতুন শাখা বিস্তারে বড় ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment