ব্যাংক শেয়ারের প্রভাবে পুঁজিবাজারে দরপতন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল দেশের পুঁজিবাজারে দরপতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন দুটোই কমেছে। একই ধরনের নিম্নমুখিতা দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ও।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লেনদেনের শুরুতে সূচক সামান্য ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও শেয়ার বিক্রির চাপে দ্রুত পতন শুরু করে। দিন শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২৩ পয়েন্ট কমে ৫,১২৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫,১৫০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ ১১ পয়েন্ট কমে ১,৯৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএসও ৫ পয়েন্ট কমে ১,০৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শীর্ষ ১০ শেয়ারের মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক খাতের শেয়ারে। এগুলো হলো: ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এছাড়া স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ব্যাংক ও কোহিনূর কেমিক্যালসও পতনে ভূমিকা রেখেছে। এই শেয়ারের দরপতনে পুঁজিবাজারে সূচক কমেছে ১৭.৬ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গতকাল মোট লেনদেন হয়েছে ৪৬১ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ৬৬৮ কোটি টাকার তুলনায় কম। ৩৯৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪২টির, কমেছে ১৯৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৯টির। খাতভিত্তিক লেনদেনের পরিসরে ব্যাংক খাত শীর্ষে অবস্থান করছে, মোট লেনদেনের ১৪.৫ শতাংশ দখল করে। সাধারণ বীমা, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতের লেনদেন যথাক্রমে ১২, ৯.২, ৮.৬ এবং ৭.৮ শতাংশ।

মোটের উপর, অধিকাংশ খাতে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। সিমেন্ট খাত সবচেয়ে বেশি ১.৭ শতাংশ নেতিবাচক, তথ্যপ্রযুক্তি খাত ১.৫ শতাংশ, ভ্রমণ ও অবকাশ এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাত ১ শতাংশ নেতিবাচক। অন্যদিকে সাধারণ বীমা খাত ২.৮ এবং পাট খাত ১.৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে।

সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স ১৮ পয়েন্ট কমে ৮,৮৬৪ পয়েন্টে এবং সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই ২৪ পয়েন্ট কমে ১৪,৩৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি টাকার, আগের কার্যদিবসে যা ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

Leave a Comment