মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অফিস সময়সূচিতে বড় ধরনের সমন্বয় আনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকিং খাতের দৈনিক কার্যক্রমেও নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামী রবিবার থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে।
সরকারি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও নিয়ন্ত্রিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরবর্তী সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও সময়নিষ্ঠ ও সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাত এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অংশ।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে লেনদেন কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ৯টায় এবং চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। লেনদেন শেষ হওয়ার পর বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ কাজ যেমন হিসাব সমন্বয়, নথি যাচাই, ক্লিয়ারিং ও রিপোর্ট প্রস্তুতির কার্যক্রম চলবে। এর আগে ব্যাংকিং কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লেনদেনসহ চলত এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কাজ সন্ধ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকত।
সরকারের মতে, এই সময় পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিদ্যুৎ ব্যবহারে কিছুটা সাশ্রয় হবে এবং অফিস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কর্মঘণ্টার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ার ফলে সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দিনের প্রথম ভাগে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা জরুরি হয়ে উঠবে। ফলে দৈনন্দিন আর্থিক পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে নগদ লেনদেন ও শাখা-নির্ভর সেবার ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নিচে নতুন ও পূর্ববর্তী ব্যাংকিং সময়সূচির তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | পূর্ববর্তী সময়সূচি | নতুন সময়সূচি |
|---|---|---|
| লেনদেন শুরু | সকাল ১০টা | সকাল ৯টা |
| লেনদেন শেষ | বিকেল ৪টা | বিকেল ৩টা |
| অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম | বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত | বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত |
| মোট কার্যক্রম সময় | প্রায় ৮ ঘণ্টা | প্রায় ৭ ঘণ্টা |
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে ব্যয় সংকোচন ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক নীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ।
অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময় কমে এলেও সেবার মানে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার চাপ বাড়ায় অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারের প্রবণতা আরও বাড়বে, যা শাখাভিত্তিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নেওয়া এই সময়সূচি পরিবর্তন দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সময় ব্যবস্থাপনায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
