ভারতের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড (সেবি) শিগগিরই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরাল সূচক ব্যাঙ্ক নিফটি (Bank Nifty)-এর গঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো সূচকের পরিধিকে আরও বৃহৎ, ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল করা। সেবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবর্তনগুলো কার্যকর হলে আগামী দিনে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) এই গুরুত্বপূর্ণ সূচক আরও বেশি স্থায়িত্ব ও ভারসাম্য অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ব্যাঙ্ক নিফটি সূচকে রয়েছে ১২টি ব্যাংকের শেয়ার। সেবির নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৪টি ব্যাংকে উন্নীত করা হবে। শুধু ব্যাংকের সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, সূচকের ওয়েটেজ বা ওজন বণ্টনেও বড় পরিবর্তন আনা হবে।
শীর্ষ তিন ব্যাংকের প্রভাব কমবে
এখনকার নিয়মে ব্যাঙ্ক নিফটি সূচকের শীর্ষে থাকা তিনটি ব্যাংক— স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI), এইচডিএফসি ব্যাংক (HDFC Bank) এবং আইসিআইসিআই ব্যাংক (ICICI Bank)— সূচকের মোট মূল্যের প্রায় ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে, এই অংশীদারিত্ব কমে ২০ শতাংশে নামানো হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ সূচককে আরও ফ্লেক্সিবল বা নমনীয় করে তুলবে। বর্তমানে এই তিন ব্যাংকের শেয়ারের দামে অল্প পরিবর্তন ঘটলেও ব্যাঙ্ক নিফটি সূচকে বড় ওঠানামা দেখা যায়। কিন্তু পরিবর্তনের পর এই প্রভাব অনেকটাই কমে যাবে।
বর্তমান সূচকে অন্তর্ভুক্ত ব্যাংকসমূহ
এখন ব্যাঙ্ক নিফটি সূচকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নিম্নলিখিত ১২টি ব্যাংক:
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ফেডারেল ব্যাংক, আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংক, কানারা ব্যাংক, ব্যাংক অফ বরোদা, এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, অ্যাক্সিস ব্যাংক, ইন্দাসইন্ড ব্যাংক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক এবং এইউ স্মল ফিনান্স ব্যাংক।
আগামী দিনে এই তালিকায় আরও দুটি ব্যাংকের শেয়ার যুক্ত হবে, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোন ব্যাংকের শেয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে তা ঘোষণা করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ইয়েস ব্যাংক, ইন্ডিয়ান ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া-এর মধ্যে থেকে যে কোনো দুটি ব্যাংককে বেছে নেওয়া হতে পারে।
পরিবর্তন ধাপে ধাপে কার্যকর হবে
সূত্র মতে, এই পরিবর্তনগুলো হঠাৎ করেই কার্যকর করা হবে না। ধাপে ধাপে পরিবর্তন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- পরিবর্তন কার্যকর শুরুর সম্ভাব্য সময়: ২০২৫ সালের ডিসেম্বর
- সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের সময়সীমা: ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে
পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সূচকটি হবে আরও ভারসাম্যপূর্ণ, এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের শেয়ারের উপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও বৈচিত্র্যময় ব্যাংকিং শেয়ারের ওপর ভিত্তি করে সূচকের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সর্বদা ঝুঁকিপূর্ণ— তাই বিনিয়োগের আগে সঠিক তথ্য বিশ্লেষণ ও অভিজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এই প্রতিবেদনটি কেবলমাত্র শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে; এটি কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়।
