ভারত সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিতে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা বর্তমান ২০% থেকে বাড়িয়ে ৪৯% করার পরিকল্পনা করছে। নীতিনির্ধারণে সরাসরি যুক্ত এক সূত্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো দেশের ব্যাঙ্কিং খাতকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করা এবং বৃহৎ পরিমাণ মূলধন প্রবাহ নিশ্চিত করা।
বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সীমিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারে। নতুন সীমার ফলে তারা এখন ব্যাংকের শেয়ারের প্রায় অর্ধেক অধিকার পেতে সক্ষম হবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু ব্যাংকের মূলধন ভিত্তি শক্ত করবে না, বরং প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্পোরেট শাসন প্রক্রিয়াকেও উন্নত করবে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতীয় ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবেন। এটি ব্যাঙ্কগুলির আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হবে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সরকার সতর্ক থাকবেন যাতে বিদেশি অংশগ্রহণ দেশীয় আর্থিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিদেশি মূলধনের প্রবাহ কেবল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা বাড়াবে না, দেশের আর্থিক খাতকে বৈশ্বিক বিনিয়োগের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপ ভারতীয় ব্যাঙ্কিং খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলবে, নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের বৃহৎ জনগোষ্ঠী এবং ডিজিটাল বিনিয়োগ অবকাঠামোতে আগ্রহী। নতুন সীমার ফলে তারা শাখা নেটওয়ার্ক, লাইসেন্স, এবং বিদ্যমান গ্রাহক ভিত্তি অর্জনের সুযোগ পাবেন, যা স্বাভাবিকভাবে তৈরি করতে বছর কালের প্রয়োজন।
