ভোলার নিম্ন আয়ের মানুষদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এনআরবিসি ব্যাংক প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। গত ৩০ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, জেলার একটি স্থানীয় হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় “প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি” বিষয়ে এক মতবিনিময় ও ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঋণগ্রহীতাদের হাতে চেক তুলে দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রূপ রতন পাইন।
Table of Contents
প্রান্তিক মানুষের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের প্রান্তিক, ভূমিহীন কৃষক, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৭৫০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিল থেকেই এনআরবিসি ব্যাংক ভোলা জেলার ১৩৭ জন গ্রাহকের মধ্যে মোট ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।
এছাড়া, সারাদেশে এই একই কর্মসূচির আওতায় এনআরবিসি ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ইতিমধ্যে ১৫০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকরা মাত্র ৭ শতাংশ সুদে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা
এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক মো. ফিরোজ আহমেদ, এনআরবিসি ব্যাংকের এসএমই ও কৃষি অর্থায়ন বিভাগের প্রধান শেখ আহসানুল হক, মাইক্রো ক্রেডিট বিভাগের প্রধান মো. রমজান আলী ভুঁইয়া, এবং বরিশাল-খুলনা জোনের প্রধান মো. আব্দুল হালিম।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এনআরবিসি ব্যাংক লিড ব্যাংক হিসেবে জেলার ২৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্থানীয় শাখাগুলোকে নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রূপ রতন পাইন অনুষ্ঠানে বলেন, “প্রতিটি নাগরিকের অন্তত একটি ব্যাংক হিসাব থাকা আমাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এতে শুধু ব্যাংকিং সেবা নয়, বরং প্রান্তিক মানুষ নিজের উদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এই লক্ষ্য পূরণের জন্য স্বল্পসুদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে, যেখান থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সহায়তা নিয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে ঋণ বিতরণ করছে। তার মতে, “এই কার্যক্রম শুধু প্রান্তিক জনগণের জীবনমান উন্নয়নই নয়, বরং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
এনআরবিসি ব্যাংকের ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গি
এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, “টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা ছাড়া বিকল্প নেই।”
তিনি জানান, অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে সকল মানুষকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, এনআরবিসি ব্যাংক সেই লক্ষ্য সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে। তার ভাষায়, “আমাদের ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা সারা দেশে বিস্তৃত। এই বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিচ্ছি একেবারে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি এবং এনআরবিসি ব্যাংকের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম একত্রে দেশের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
