মধুমতি ব্যাংক পিএলসি দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও অগ্রগতি আনতে মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজন করেছে “অ্যান্টি–মানি লন্ডারিং ও কমব্যাটিং দ্য ফাইন্যান্সিং অব টেররিজম কনফারেন্স ২০২৫”। সম্মেলনে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সর্বশেষ নীতি, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-এর নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান (বর্তমান দায়িত্ব) মোফিজুর রহমান খান চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আর্থিক অপরাধের পরিবর্তিত ধরন, ডিজিটাল লেনদেনের ঝুঁকি, এবং ব্যাংকিং সেক্টরে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যাংকারদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নৈতিক মানসিকতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুমতি ব্যাংক পিএলসি–এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর এবং পরিচালক এ মন্নান খান। তারা ব্যাংকগুলোর ভূমিকা, বিশেষত জাতীয় আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সক্রিয় উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনওয়াজ চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থপাচার রোধে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এখন অপরিহার্য। তিনি BFIU-এর দিকনির্দেশনাকে ‘ব্যাংকিং খাতের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান’ বলে উল্লেখ করেন।
মূল আলোচনার সেশনগুলো পরিচালনা করেন:
জুয়েরিয়া হক, যুগ্ম পরিচালক, BFIU
সহালাম কাজী, যুগ্ম পরিচালক, BFIU
মো. মাহবুবুল আলম, পুলিশ সুপার ও পরিচালক (প্রশিক্ষণ), বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজ
তারা বৈশ্বিক মানদণ্ড, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তের কৌশল, ডিজিটাল প্রতারণার প্রবণতা এবং ব্যাংকিং খাতে উদীয়মান ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
এবারের সম্মেলনের উল্লেখযোগ্য অর্জন ছিল এর ব্যাপক অংশগ্রহণ। দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রায় ৮০০ কর্মকর্তা ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যোগ দেন। এই হাইব্রিড আয়োজনের ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও AML–CFT সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট জানতে পারেন।
এছাড়া ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও CAMLCO আরব ফজলুর রহমান, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, বিভাগীয় প্রধান, শাখা ব্যবস্থাপক, অপারেশনস ম্যানেজার, ঋণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের মাধ্যমে মধুমতি ব্যাংক পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জাতীয় নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড পূরণের প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে ভবিষ্যতেও ব্যাংকটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
