মানি লন্ডারিং ঠেকাতে নতুন কৌশল—ব্যাংকারদের জন্য ট্রাস্ট ব্যাংক–বিএফআইইউর বিশেষ আয়োজন!

ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যৌথভাবে কক্সবাজারের সিটি হোটেলে আয়োজিত এক আঞ্চলিক কর্মশালায় আর্থিক খাতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আধুনিক কৌশল, নতুন ঝুঁকি সূচক এবং অটোমেটেড মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছে। কর্মশালার শিরোনাম ছিল— “প্রোঅ্যাকটিভ ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং – মানি লন্ডারিং শনাক্তে মূল সূচক নির্ধারণ”।

বিএফআইইউ–এর পরিচালক এ কে এম গোলাম মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মতে, বহুমাত্রিক আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রোঅ্যাকটিভ মনিটরিং বা আগাম সতর্কতামূলক লেনদেন বিশ্লেষণ দেশের আর্থিক অখণ্ডতা রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি–এর অ্যান্টি মানি লন্ডারিং ডিভিশনের প্রধান এবিএম মইনুল হাসিব বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংকিংয়ের যুগে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করতে ব্যাংকারদের দক্ষতা বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে হঠাৎ করে বড় অঙ্কের আমানত জমা হওয়া, অস্বাভাবিক নগদ উত্তোলন, অল্প সময়ে বারবার লেনদেন স্থানান্তর—এসব আচরণ শনাক্তের ক্ষেত্রে উন্নত মেকানিজম গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

কর্মশালার টিম লিডার হিসেবে বিএফআইইউ–এর অতিরিক্ত পরিচালক রুমান আহমেদ দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। তাঁর উপস্থাপনায় মানি লন্ডারিংয়ের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পদ্ধতি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, গ্রাহক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–নির্ভর ফিনটেক ঝুঁকি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মশালায় অংশ নেন। আয়োজনে বেশ কিছু ইন্টারেক্টিভ সেশন, কেস স্টাডি আলোচনা, এবং হাতে–কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে অটোমেটেড সিস্টেমে সন্দেহজনক কার্যক্রম চিহ্নিত করতে পারেন—সেই বিষয়ে গভীর ধারণা লাভ করেন।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া ব্যাংকাররা মনে করেন, এই ধরনের জ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানোন্নয়ন ঘটায় এবং ব্যাংকিং খাতে জালিয়াতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা, সময়োপযোগী তথ্য বিনিময়, এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে মানি লন্ডারিংঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। কর্মশালাটি স্বচ্ছতা ও আর্থিক অখণ্ডতা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment