বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয় প্রবাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের মুদ্রাবাজার প্রতিনিয়ত ওঠানামার মধ্যে থাকে। বিশেষ করে প্রবাসে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে, যা আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, ব্যাংকিং খাতের লেনদেন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হারের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের ক্রয় হার ১২২ টাকা ৭০ পয়সা এবং বিক্রয় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে ডলারের চাহিদা, সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই হার সময়ভেদে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। অন্যদিকে ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয় ও বিক্রয় হার যথাক্রমে ১৪৩ টাকা ০৯ পয়সা এবং ১৪৩ টাকা ১৭ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে, যা ইউরোপীয় অর্থনীতির তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের পাউন্ড স্টার্লিংয়ের ক্ষেত্রে ক্রয় হার ১৬৪ টাকা ৩১ পয়সা এবং বিক্রয় হার ১৬৪ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এশীয় মুদ্রাগুলোর মধ্যে জাপানি ইয়েন তুলনামূলকভাবে নিম্নমূল্যে অবস্থান করছে, যার ক্রয় হার ০ টাকা ৭৭ পয়সা এবং বিক্রয় হার ০ টাকা ৭৬৭ পয়সা। এছাড়া সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয় হার ৯৬ টাকা ২৭ পয়সা এবং বিক্রয় হার ৯৬ টাকা ৩৮ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উত্তর আমেরিকার কানাডিয়ান ডলারের ক্রয় হার ৮৮ টাকা ৬০ পয়সা এবং বিক্রয় হার ৮৮ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতের রুপির ক্ষেত্রে ক্রয় ও বিক্রয় হার উভয়ই ১ টাকা ৩২ পয়সা স্থির রয়েছে, যা সীমান্ত বাণিজ্য ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা সৌদি রিয়ালের ক্রয় হার ৩২ টাকা ৭৩ পয়সা এবং বিক্রয় হার ৩২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে, যা বিশেষ করে হজ, ওমরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত শ্রমিকদের লেনদেনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম, উন্নত অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার নীতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ ভবিষ্যতে এই বিনিময় হারে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এই স্থিতিশীলতা রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা, আমদানি ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
২০২৬ সালের ৯ এপ্রিলের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
| মুদ্রার নাম | ক্রয় (টাকা) | বিক্রয় (টাকা) |
|---|---|---|
| ইউএস ডলার | ১২২.৭০ | ১২২.৭৫ |
| পাউন্ড স্টার্লিং | ১৬৪.৩১ | ১৬৪.৪৩ |
| ইউরো | ১৪৩.০৯ | ১৪৩.১৭ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৭ | ০.৭৬৭ |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৬.৪১ | ৮৬.৪৮ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.২৭ | ৯৬.৩৮ |
| কানাডিয়ান ডলার | ৮৮.৬০ | ৮৮.৬৮ |
| ভারতীয় রুপি | ১.৩২ | ১.৩২ |
| সৌদি রিয়াল | ৩২.৭৩ | ৩২.৫০ |
মুদ্রাবাজার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবাহ, বৈদেশিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করে এই হার নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। ফলে ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
