রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ)। এই উদ্যোগের আওতায় যাত্রীরা ভবিষ্যতে তাদের নিজস্ব ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেই মেট্রো রেলে যাতায়াত করতে পারবেন—যা বর্তমানে ব্যবহৃত র্যাপিড পাস ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে চালু করা হবে।
ডিটিসিএ সূত্র জানায়, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ওই বৈঠকে দেশের ৬২টি তফসিলভুক্ত ব্যাংকের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকে মূলত ব্যাংক–ইস্যুকৃত কার্ডে ডুয়াল ইন্টারফেস (কন্ট্যাক্ট ও কন্ট্যাক্টলেস) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা এবং তা গণপরিবহনে ব্যবহারযোগ্য করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
ডিটিসিএর কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধু মেট্রো রেলের টিকিটিং ব্যবস্থাকে সহজ করা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে র্যাপিড পাসকে একটি সর্বব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর করা। ভবিষ্যতে এই কার্ড ব্যবহার করে বাস, মেট্রো, পার্কিং, এমনকি আর্থিক লেনদেন, বিল পরিশোধ ও ই-ব্যাংকিং সেবাও গ্রহণ করা যাবে—এমন একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ডিটিসিএ মনে করছে, ব্যাংকগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার বাস্তবায়ন অনেক দ্রুত সম্ভব হবে।
ব্যাংকগুলোর আগ্রহের বর্তমান চিত্র
| ব্যাংকের নাম | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি | আগ্রহ প্রকাশ |
| সোনালী ব্যাংক | আগ্রহ প্রকাশ |
| ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড | আগ্রহ প্রকাশ |
| ওয়ান ব্যাংক | আগ্রহ প্রকাশ |
| সিটি ব্যাংক | আগ্রহ প্রকাশ |
| ট্রাস্ট ব্যাংক | আগ্রহ প্রকাশ |
ডিটিসিএ জানায়, এই নতুন ব্যবস্থার জন্য মেট্রো স্টেশনগুলোতে আলাদা করে কোনো বড় অবকাঠামো স্থাপনের প্রয়োজন হবে না। বিদ্যমান গেট ও ভ্যালিডেশন সিস্টেমের মাধ্যমেই ব্যাংক কার্ড স্ক্যান করে প্রবেশ ও প্রস্থান সম্ভব হবে। ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে দেশের সব ব্যাংকের কার্ড যেন একক মানদণ্ডে মেট্রো রেলে ব্যবহার করা যায়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং নগদবিহীন লেনদেন আরও উৎসাহিত হবে।”
বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ১৩ লাখ র্যাপিড পাস কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত পাঁচটি নতুন এমআরটি লাইন চালু হলে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। তবে ক্লিয়ারিং হাউস প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এনএফসি-ভিত্তিক কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তা সত্ত্বেও ডিটিসিএ নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যবহার করে অনলাইন রিচার্জ, কার্ড আপডেটিং ও সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ব্যাংক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় রাজধানীর গণপরিবহন শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থায় রূপ নেবে, যা নাগরিক জীবনকে আরও সহজ ও সময় সাশ্রয়ী করবে।
