যুক্তরাজ্যের আর্থিক বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিরতার ছায়া বেড়েই চলেছে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা এবং দেশীয় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী কীর স্টারমারের নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে উত্থান-পতন পাউন্ড ও সরকারি ঋণের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
আইজি-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক ক্রিস বিউচাম্প বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য পদত্যাগ বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। লেবার পার্টির ভেতরের সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রার্থী ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের অবস্থান পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “মোটের উপর বাজারে অস্থিরতার মূল কারণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।”
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সুদের হার অপরিবর্তিত রাখাই যুক্তিযুক্ত। লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ প্রফেসর কস্টাস মিলাস বলেন, “জনমতের ভিত্তিতে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখাই যৌক্তিক। সম্প্রতি জনগণ ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতি ৩% অতিক্রম করবে বলে ধারণা করছে, যা ব্যাংকের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘ক্রিটিকাল মিনারেলস সামিট’-এ ৫০টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যৌথ সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নির্মাণ খাতের সাম্প্রতিক সূচকও প্রকাশিত হয়েছে। যদিও সামান্য সংকোচন দেখা দিয়েছে, তবে সংকটের তীব্রতা কমেছে। এসএন্ডপি গ্লোবালের জানুয়ারির জরিপে মোট নির্মাণ কার্যক্রমের সূচক ৪৬.৪ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ৫০-এর নিচে থাকলেও গতির হ্রাস নির্দেশ করে।
যুক্তরাজ্যের নির্মাণ খাতের পরিসংখ্যান (জানুয়ারি ২০২৬)
| খাত | সূচক (PMI) | পূর্ব মাস (ডিসেম্বর ২০২৫) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| মোট নির্মাণ কার্যক্রম | 46.4 | 40.1 | সংকোচন কমেছে, তবে এখনও স্থিতিশীল নয় |
| গৃহনির্মাণ | 42.0 | 39.5 | তিন মাসে সবচেয়ে ধীর সংকোচন |
| বাণিজ্যিক নির্মাণ | 49.8 | 46.7 | প্রায় স্থিতিশীল, চুক্তি বৃদ্ধি |
| সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং | 44.5 | 41.2 | ক্রমশ কমছে, তবে ধীর গতিতে |
এসএন্ডপি গ্লোবালের অর্থনীতি পরিচালক টিম মুর জানান, “নির্মাণ খাতের পতনের ধাপ শেষ হতে শুরু করেছে। নতুন প্রকল্প নিয়ে আশাবাদ বেড়েছে, চাকরির ক্ষতি কমেছে, এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রত্যাশা আট মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।”
মোটকথা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হার এবং ধীরগতি সম্পন্ন গৃহনির্মাণ মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে অস্থিরতা বজায় থাকলেও সামান্য ইতিবাচক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে খাতের পুনরুদ্ধারের সূচনা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা বাড়াবে।
