দেশের তরুণ প্রজন্মকে স্বনির্ভর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের (ডিওয়াইডি) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ উদ্যোক্তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) ঋণ সুবিধা পাবেন, যা তাদের আত্মকর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ঢাকার মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) গাজী মো. সাইফুজ্জামান এবং এনসিসি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শামসুল আরেফিনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গাজী মো. সাইফুজ্জামান অনুষ্ঠানে বলেন, “যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশের তরুণ সমাজকে স্বনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ তরুণ-তরুণী এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেদের দক্ষতা বাড়াচ্ছে।” তিনি এনসিসি ব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই সহযোগিতা দেশের বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শামসুল আরেফিন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, কোনো সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা যেন অর্থাভাবের কারণে পিছিয়ে না পড়ে। ব্যাংক হিসেবে আমরা সবসময়ই স্বনির্ভর উদ্যোগকে উৎসাহ দিয়ে আসছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে হাজারো তরুণ উদ্যোক্তা শুধু নিজেরাই স্বনির্ভর হবে না, বরং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে এটি দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
আরেফিন উল্লেখ করেন, “উভয় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে একসঙ্গে কাজ করে এমন এক প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায়, যারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইডির যুগ্মসচিব ও পরিচালক (প্রশাসন) এম এ আখের, যুগ্মসচিব ও পরিচালক (সিড ফাইন্যান্সিং) প্রিয়সিন্দু তালুকদার, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) একেএম মোফিজুল ইসলাম, এনসিসি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও এসএমই প্রধান শরীফ মোহাম্মদ মহসিন, সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও ট্রানজাকশন ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান শাহিন আখতার নুহা এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন সেলের প্রধান মো. আনিসুর রহমান মজুমদার।
এই চুক্তি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ উদ্যোক্তারা আর্থিক সহায়তা পেয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।
