রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুক্রবার দেশের মূল সুদের হার ১৫.৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দিয়েছে। এটি ২০২৬ সালের মধ্যে ছয়বারের মতো হ্রাস এবং অর্থনীতির ধীরগতি মোকাবিলা ও উচ্চ সুদের চাপ কমানোর প্রয়াসের অংশ হিসেবে এসেছে। ব্যাংক জানিয়েছে, সাময়িকভাবে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এটি অস্থায়ী এবং ২০২৬ সালের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হ্রাস ব্যবসায় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে এবং ঋণ গ্রহণ সহজ করবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক। তবে রাশিয়ার অর্থনীতি এখনও বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা, তেল ও গ্যাস থেকে আয় কমা এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে।
সুদের হার পরিবর্তনের বিবরণ
| তারিখ | সুদের হার (%) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২০২৫ সালের জানু | ১৭.৫ | অর্থনৈতিক চাপের কারণে হ্রাস শুরু |
| ২০২৫ সালের মার্চ | ১৭.০ | ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য স্বস্তি |
| ২০২৫ সালের মে | ১৬.৫ | মুদ্রাস্ফীতি সাময়িক বৃদ্ধি |
| ২০২৫ সালের জুলাই | ১৬.০ | ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হ্রাস পরিকল্পনা |
| ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর | ১৬.০ | স্থিতিশীল হার ধরে রাখা |
| ২০২৫ সালের নভেম্বর | ১৬.০ | মুদ্রানীতি পুনর্মূল্যায়ন |
| ২০২৬ সালের জানু | ১৫.৫ | সাম্প্রতিক হ্রাস, মোট ছয়বারের হ্রাস |
ব্লুমবার্গের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৮ জন অর্থনীতিবিদ মধ্যে মাত্র ২ জনই এই হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বাকিরা মূল হার অপরিবর্তিত রাখার প্রত্যাশা করছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, হ্রাসকৃত সুদের হার খুচরা খরচ ও শিল্প উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে। গত বছরের উচ্চ সুদের হার উদ্যোগ ও ঋণ গ্রহণকে ব্যাহত করেছিল, তাই এই হ্রাস ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির বিষয়।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, মুদ্রানীতি এখনও নমনীয় হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরগতির অর্থনীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ঋণ ও বিনিয়োগ বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে উৎপাদন ও রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব আনার ক্ষেত্রে।
মোটকথা, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতির স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগী হয়ে মূল সুদের হার কমাচ্ছে, যাতে ব্যবসায় বিনিয়োগ ও জনসাধারণের খরচ বাড়ানো যায় এবং সাময়িক মুদ্রাস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
এই হ্রাসের ফলে আগামী মাসগুলোতে ঋণগ্রহণ সহজ হবে, শিল্প উৎপাদন বাড়বে এবং বাজারে অর্থের স্রোত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন যে, বৈশ্বিক তেলের দাম, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের পরিস্থিতি এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
