চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম ১৯ দিনে বাংলাদেশের প্রবাসী নাগরিকরা রেকর্ড পরিমাণ ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)। এই পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে শক্তিশালী অবদান রেখেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ নভেম্বরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রেরিত এই রেমিট্যান্স দেশের আর্থিক সুরক্ষাকে আরও মজবুত করেছে। হুন্ডির বিরুদ্ধে সরকারের নানা উদ্যোগ, বিশেষ প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবার উন্নতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নভেম্বর মাসের বাকি সময়েও যদি এই প্রবাহ বজায় থাকে, তবে পুরো মাসে রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পার করতে পারে। গত অক্টোবর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ১০১ কোটি ৪৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।
এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে, চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় অনেক ভালো রয়েছে।
টেবিল: রেমিট্যান্সের প্রবাহ (২০২৪-২৫ অর্থবছর)
| মাস | রেমিট্যান্স (ডলার) | আগের বছরের তুলনায় পার্থক্য |
|---|---|---|
| জুলাই | ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার | – |
| আগস্ট | ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার | – |
| সেপ্টেম্বর | ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার | – |
| অক্টোবর | ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার | ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বেশি |
| নভেম্বর (১৯ দিন) | ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার | – |
বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস:
বাংলাদেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা শীর্ষে থাকে। সরকারের নানা উদ্যোগ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির কারণে হুন্ডির ব্যবহার কমেছে এবং বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করা হচ্ছে।
এখন, আশা করা হচ্ছে যে, যদি এই প্রবাহ অব্যাহত থাকে, তাহলে বাংলাদেশ তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
