ঢাকা, ১৯ নভেম্বর ২০২৫: দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গ্রেফতার করেছে। তিনি ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে পুলিশ সহযোগিতায় মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক আক্তারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পূর্বে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদক গত ৯ অক্টোবর ২০২৫ থেকে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছিল।
অগ্রণী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৮ সেপ্টেম্বর দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জ শাখা থেকে বিতরণ করা টিআর (ট্রাস্ট রিসিপ্ট) ঋণের ৫১ কোটি টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই অর্থের পরিমাণ সুদসহ বেড়ে ১৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে।
মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা সার্কেল-২ এর সাবেক মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন, এবং দুদক জানিয়েছে যে, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখা হবে। এছাড়া তাকে মামলার বিচারাধীন এলাকা, চট্টগ্রামের মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিচের টেবিলে মামলার মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযুক্ত | মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ |
| পদবী | সাবেক মহাব্যবস্থাপক, অগ্রণী ব্যাংক; সাবেক চেয়ারম্যান, ইসলামী ব্যাংক |
| অভিযোগ | অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১৯০ কোটি টাকা আত্মসাত, টিআর ঋণের ৫১ কোটি অবৈধ ব্যবহার |
| মামলা দায়েরের তারিখ | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
| তদন্তকারী সংস্থা | দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) |
| গ্রেফতারের তারিখ | ১৯ নভেম্বর ২০২৫ |
| গ্রেফতারের স্থান | ধানমন্ডি, ঢাকা |
| আদালত | চট্টগ্রামের মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত |
| স্থিতি | তদন্তাধীন; জেলহাজতে রাখার নির্দেশ |
বৈশ্বিক ও স্থানীয় ব্যাংকিং বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অর্থনৈতিক অপরাধের মামলা ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রণ এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।
