দেশের ব্যাংকিং খাতের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকে উচ্চপর্যায়ে প্রশাসনিক রদবদল ও পদোন্নতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মরত তিনজন দক্ষ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত পরিচালক পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। এই পদোন্নতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তদারকি এবং পরিদর্শন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন
গত সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে এই পদোন্নতি সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাংকিং পরিদর্শন বিভাগ-১০-এর যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ শাহিন আক্তারকে তাঁর কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ অতিরিক্ত পরিচালক পদে উন্নীত করা হয়েছে।
শাহিন আক্তার ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও দুইজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা একই পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তারা হলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শাহিনূর মোহাম্মদ আল আমিন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা অফিসের যুগ্ম পরিচালক আব্দুর রহমান। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা ও তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| কর্মকর্তার নাম | পূর্ববর্তী পদবি | বর্তমান পদবি | সর্বশেষ কর্মস্থল/বিভাগ |
| মোহাম্মদ শাহিন আক্তার | যুগ্ম পরিচালক | অতিরিক্ত পরিচালক | ব্যাংকিং পরিদর্শন বিভাগ-১০ |
| শাহিনূর মোহাম্মদ আল আমিন | যুগ্ম পরিচালক | অতিরিক্ত পরিচালক | আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ |
| আব্দুর রহমান | যুগ্ম পরিচালক | অতিরিক্ত পরিচালক | বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা অফিস |
মোহাম্মদ শাহিন আক্তারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন
অতিরিক্ত পরিচালক পদে পদোন্নতি পাওয়া মোহাম্মদ শাহিন আক্তার একজন অভিজ্ঞ এবং দক্ষ ব্যাংকার হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগে সহকারী পরিচালক (AD) হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখা ও বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শাহিন আক্তার তাঁর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে বগুড়া অফিসসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক পরিদর্শন বিভাগ এবং ‘অফ সাইট সুপারভিশন’ বিভাগে কাজ করেছেন। তাঁর কাজের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ছিল ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও আইনি পরিপালন নিশ্চিত করা।
আর্থিক খাত পুনর্গঠনে ভূমিকা
শাহিন আক্তারের পেশাদার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে তিনি দেশের আলোচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস’-এর সহকারী লিকুইডেটর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার প্রক্রিয়ায় তাঁর এই অভিজ্ঞতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জিং সময়ে তারল্য ব্যবস্থাপনা ও ঋণের গুণমান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
