বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নোট দীর্ঘদিনের বিরতির পর আবারও সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন এই নোটগুলো সিলগালা অবস্থায় রাখা হয়েছিল এবং বাজারে ছাপানো বা বিতরণ বন্ধ ছিল। তখন নতুন নকশার নোটই বাজারে প্রচলিত হয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক নির্দেশনার আলোকে চাহিদার ঘাটতি পূরণ এবং নগদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ধীরে ধীরে পুরানো নোটগুলো বাজারে আসছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, “২০২৫ সালের ঈদুল আযহার সময়ে পুরনো নোটের বিতরণ বন্ধ করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। এরপর আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নোটগুলো বাজারে ছাড়ছি। যতটা সম্ভব সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “নোটগুলো নিষিদ্ধ হয়নি, তাই বিতরণে কোনো বাধা নেই। নতুন নকশার নোটের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় পুরানো নোট বাজারে আনা হচ্ছে। এতে জনগণ দ্রুত নগদ সুবিধা পেতে পারছে।”
নোট পুনর্বিতরণের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নতুন নোট ছাপানোর ধীরগতি। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট ছাপাতে গিয়ে বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছিল না। ফলে পুরানো নোটগুলো ধীরে ধীরে ছাপানো ও বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে নতুন নকশার নোট বাজারে চলে আসে, যা দীর্ঘদিন সিলগালা অবস্থায় ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বাজারে নগদ চাহিদা পূরণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি কার্যকর কৌশল। তবে নতুন নোট ছাপানোর ধীরগতি এবং পুরানো নোটের বাজারমূল্য নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
নিচে নোট বিতরণের মূল তথ্য টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নোটের ধরন | শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নোট |
| বিতরণের অবস্থা | সিলগালা অবস্থায় বাজারে ছাড়া হচ্ছে |
| কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান | নিষিদ্ধ নয়, তাই বিতরণে বাধা নেই |
| নতুন নকশার নোট | চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম |
| বিতরণের কারণ | নগদ ঘাটতি পূরণ ও বাজার চাহিদা মেটানো |
| বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান | সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক |
| বিতরণের সময়কাল | ২০২৫ সালের ঈদুল আযহার পর থেকে |
সার্বিকভাবে, এই উদ্যোগ নগদ ব্যবস্থাপনা এবং বাজার চাহিদা সামঞ্জস্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ দ্রুত নগদ সুবিধা পাচ্ছে এবং অর্থনীতিতে নগদ লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।