সংকট কাটিয়ে সোনালী ব্যাংকের মুনাফার উজ্জ্বল পথ

হল-মার্ক গ্রুপসহ বিভিন্ন ঋণ কেলেঙ্কারির ধাক্কা কাটিয়ে আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটি এখন বড় মুনাফা অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে গ্রাহকসংযোগ ও আর্থিক স্বচ্ছতা জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।

ব্যাংকটি বর্তমানে বড় ঋণগ্রহীতাদের ঝুঁকি এড়িয়ে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানে মনোনিবেশ করছে। ২০২৫ সালে সোনালী ব্যাংক বিনিয়োগ, সুদ আয় ও কমিশন থেকে ৮,০১৭ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে, যা ২০২১ সালের ২,০৯০ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি। এই মুনাফা থেকে মূলধন ঘাটতি মেটিয়ে নিট মুনাফার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫০০ কোটি টাকা।

তবে হল-মার্ক, বেক্সিমকো, থারমেক্স, ওরিয়নসহ কিছু গ্রুপের ঋণ এখনও আদায় করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে খেলাপি ঋণ কমতে পারেনি। ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে খেলাপি ঋণের হার ১৮ শতাংশ, যা দেশের ব্যাংক খাতের গড় ৩৫ শতাংশের তুলনায় অনেক কম।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, “আমরা ঋণ আদায় জোরদার করার পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। ব্যাংককে শক্তিশালী ভিত্তিতে দাঁড় করাতে যা করা দরকার, তা করা হচ্ছে। এতে ব্যাংক ভালো আয় করছে।”

সোনালী ব্যাংকের পাঁচ বছরের আর্থিক চিত্র নিম্নরূপ:

বিষয়২০২১২০২৫বৃদ্ধি/পরিবর্তন
আমানত (কোটি টাকা)১,৩৫,০৮২১,৭৯,৮৭৯+৪৫,৭৯৭
ঋণ (কোটি টাকা)৬৯,০৬০১,০৪,৭২৩+৩৫,৬৬৩
সরকারি খাতের ঋণ২০,০৫৬৩৯,৫৬৪+১৯,৫০৮
বেসরকারি খাতের ঋণ৪৯,৪০৪৬৫,১৫৯+১৫,৭৫৫
পরিচালন মুনাফা (কোটি টাকা)২,০৯০৮,০১৭+৫,৯২৭
মূলধন পর্যাপ্ততা (%)ঋণাত্মক ১৫১০.১০

২০২৫ সালে ব্যাংক বিনিয়োগ থেকে ৯,৭৬৪ কোটি টাকা, সুদ আয় থেকে ৭,৪৮৩ কোটি টাকা, কমিশন থেকে ১,০৩৮ কোটি টাকা এবং মুদ্রা বিনিময় থেকে ৩৫৯ কোটি টাকা আয় করেছে। আমানতকারীদের সুদ ও বেতন-ভাতার পর ব্যাংকটির প্রকৃত সুদ আয় দাঁড়িয়েছে ২৬৮ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের ৮৬৬ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি।

এভাবে সোনালী ব্যাংক দীর্ঘদিনের মূলধন–ঘাটতি কাটিয়ে আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করেছে এবং বড় মুনাফার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment