বাংলাদেশের আর্থিক খাতে আগামী সপ্তাহে এক দীর্ঘ ছুটির আবহ তৈরি হতে যাচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান টানা চার দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত সরকারের নির্বাহী আদেশ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে।
ছুটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
গত ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি থাকবে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ (ডিএফআইএম) একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০২৩-এর ৪১ (২) (ঘ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই দুই দিন দেশে কার্যরত সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই নির্দেশনাটি ইতিমধ্যে দেশের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
টানা চার দিনের ছুটির সমীকরণ
তালিকাবদ্ধ এই দুই দিনের ছুটির সাথে যুক্ত হচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে গ্রাহক ও সংশ্লিষ্টরা টানা চার দিনের একটি দীর্ঘ বিরতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন। নিচে ছুটির তালিকাটি বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:
| তারিখ | বার | ছুটির ধরণ | কারণ |
| ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | বুধবার | সাধারণ ছুটি | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন |
| ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার | সাধারণ ছুটি | গণভোট |
| ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | শুক্রবার | সাপ্তাহিক ছুটি | নিয়মিত সরকারি ছুটি |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | শনিবার | সাপ্তাহিক ছুটি | নিয়মিত সরকারি ছুটি |
গ্রাহক সেবায় প্রভাব ও প্রস্তুতি
টানা চার দিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে ব্যাংকিং এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত লেনদেনে কিছুটা স্থবিরতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বড় অংকের চেক ক্লিয়ারিং, ঋণ বিতরণ এবং অফলাইন আমানত সংগ্রহের কাজগুলো এই সময়ে বন্ধ থাকবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নগদ টাকা সরবরাহ রাখার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনলাইন ব্যাংকিং, অ্যাপ-ভিত্তিক লেনদেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা (MFS) যেমন বিকাশ, নগদ বা রকেট যথারীতি সচল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যাদের জরুরি আর্থিক লেনদেন প্রয়োজন, তারা যেন ১০ ফেব্রুয়ারির (মঙ্গলবার) মধ্যেই তা সম্পন্ন করে নেন।
