সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন মুনাফা সুবিধা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সকল আমানতকারীরা এবার তাঁদের সঞ্চয়, চলতি এবং মেয়াদি আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা মাসিক ভিত্তিতে তুলে নিতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন ব্যবস্থার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই পদক্ষেপ আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

গভর্নর বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, রেমিট্যান্স এবং সঞ্চয়পত্রের বিপরীতেও এখন থেকে মুনাফা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তোলনযোগ্য হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিছু দুষ্টুচক্র সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছে। তবে গ্রাহকদের মূল আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ধাপে ধাপে তা ফেরত দেওয়া হবে।”

মুনাফার হার সম্পর্কেও গভর্নর বিস্তারিত জানান। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এক বছরের বেশি মেয়াদি আমানতে মুনাফার হার নির্ধারিত হয়েছে ৯.৫ শতাংশ, আর এক বছরের কম মেয়াদে মুনাফার হার হবে ৯ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, সরকার দুই বছরের জন্য ৪ শতাংশ সহায়তা প্রদান করছে, যা প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করছে। এই কারণে কোনো গুজবের প্রভাবে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ তিনি দেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকটি সরকারী উদ্যোগে গঠিত। পূর্বে দুর্বল হয়ে পড়া এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে। এই একীভূত ব্যাংকের মূল তথ্য নিম্নরূপ:

ব্যাংক সংযোগকারীআমানতকারীর সংখ্যাজমা টাকা (কোটি)ঋণের পরিমাণ (কোটি)খেলাপি ঋণের হার (%)
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক৭৬ লাখ১,৪২,০০০১,৯২,০০০৭৭

গভর্নর জানান, দেশের বৃহৎ এই একীভূত ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারী আছেন এবং তাদের জমা রয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে বিতরণ করা ঋণের ৭৭ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, চলতি স্কিম অনুযায়ী গ্রাহকরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা মাসিকভিত্তিতে উত্তোলন করতে পারবেন

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “আমরা ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করছি। কোনো একক পরিকল্পনা শতভাগ সফল হয় না, তাই ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে।”

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করছে যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা তাঁদের আমানত ও মুনাফা নিরাপদে এবং স্বচ্ছভাবে উপভোগ করতে সক্ষম হবেন। এটি গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করবে।

Leave a Comment