বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশের পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ও শক্তিশালী ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। গভর্নরের বরাতে জানা গেছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স ব্যবহার করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং নতুন ব্যাংকটি আগামী সপ্তাহে যাত্রা শুরু করতে পারে।
এই তথ্য তিনি জানিয়েছেন চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন-২০২৫ এর উদ্বোধনী অধিবেশনে, যা শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের শিরোনাম ছিল “অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার”, এবং আয়োজক ছিলেন বাংলা দৈনিক বণিক বার্তা।
গভর্নর বলেন, নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন থাকবে ৩৫,০০০ কোটি টাকা, যা দেশের ব্যাংক খাতে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তুলনামূলকভাবে, বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলোর সর্বোচ্চ মূলধন মাত্র ১,৫০০ কোটি টাকার মতো। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দুর্বল পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে আমরা একটি সবল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে এখানে ২০,০০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা। তাদের মধ্যে ছিলেন:
এ কে এনামুল হক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক
এ কে আজাদ, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) সভাপতি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান
মাসরুর আরেফিন, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)
নিচের টেবিলে নতুন ব্যাংকের মূলধন এবং সরকারের সহায়তার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন | ৩৫,০০০ কোটি টাকা |
| সর্বোচ্চ বর্তমান মূলধন | ১,৫০০ কোটি টাকা |
| সরকারের সহায়তা | ২০,০০০ কোটি টাকা |
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যাংকিং প্লেয়ার গড়ে ওঠার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সাধারণ জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন ব্যাংকের যাত্রা শুরু হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতা, উন্নত সেবা এবং বৃহত্তর আর্থিক ক্ষমতা সৃষ্টির আশা করা হচ্ছে।
