দেশের ব্যাংকিং খাতে এক বিশাল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গঠিত রাষ্ট্রমালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাংকার নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান। এর আগে তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে নতুন এই ব্যাংকটি একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাদার নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে।
Table of Contents
নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
গত রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। উক্ত চিঠিতে নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে এমডি হিসেবে নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সম্মতির কথা জানানো হয়। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর বিধান অনুযায়ী এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পর্ষদকে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া জানিয়েছেন যে, বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্ষদ সভায় উত্থাপন করা হবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক অনাপত্তি (NOC) গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন।
নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার
নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান দেশের ব্যাংকিং অঙ্গনে একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর দীর্ঘ ৩১ বছরের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | আইবিএ (IBA), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। |
| মোট অভিজ্ঞতা | ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ ৩১ বছর। |
| পূর্ববর্তী কর্মস্থল | এএমডি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। |
| বিশেষ দক্ষতা | ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (Risk Management), ইসলামিক ব্যাংকিং ও ট্রানজেকশন ব্যাংকিং। |
| অন্যান্য দায়িত্ব | ডিএমডি (ব্র্যাক ব্যাংক) এবং কান্ট্রি চিফ রিস্ক অফিসার (হাবিব ব্যাংক লিমিটেড)। |
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: একটি নতুন দিগন্ত
পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন ইসলামী ব্যাংক—এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত হয়ে গঠিত হয়েছে এই বিশালাকার প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাংকটির মূলধনের কাঠামো দেশের আর্থিক খাতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম।
অনুমোদিত মূলধন: ৪০,০০০ কোটি টাকা।
পরিশোধিত মূলধন: ৩৫,০০০ কোটি টাকা।
সরকারের অংশগ্রহণ: ২০,০০০ কোটি টাকা (গরিষ্ঠ অংশীদার)।
জনসাধারণের অংশ: ১৫,০০০ কোটি টাকা (আমানতকারীদের শেয়ার)।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও গুরুত্ব
ব্যাংকিং খাতে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই একীভূতকরণ এবং পেশাদার এমডি নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানের মতো একজন ‘রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে ব্যাংকটি আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও আধুনিক রূপ দিতে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রমালিকানাধীন হওয়ার ফলে ব্যাংকটি গ্রাহকদের কাছে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নতুন এই ব্যাংকটির যাত্রা শুরু এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরার নতুন আশা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
