বাংলাদেশের পাঁচটি বিপন্ন বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করার সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।
১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার এই রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন, যিনি শাহিদুল ইসলাম নামে একটি ব্যাংকের সাধারণ বিনিয়োগকারীর পক্ষে এ রিট দায়ের করেছেন। রিটে দাবি করা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর বর্তমান শেয়ারহোল্ডিং অনুযায়ী সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের, যার মধ্যে আবেদনকারীও অন্তর্ভুক্ত, সন্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামক নতুন প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হোক।
এছাড়া, রিটে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর, অর্থসচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ভুক্ত করা হয়েছে, যারা সরকারের অবস্থান রক্ষা করবেন।
আইনজীবী হোসেন জানান, রিটটি হয়তো এই সপ্তাহে বা পরবর্তী সপ্তাহে হাইকোর্টে শোনা হতে পারে। রিটের মধ্যে বলা হয়েছে, সরকার নতুন ব্যাংক তৈরির জন্য যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করছে, তাদের শেয়ারহোল্ডারদের কোনো শেয়ার না দিয়ে এটি করা হচ্ছে, যা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।
শাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ক্লায়েন্টের মতো সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয় করেছেন এবং সরকার তাদের শেয়ার ছাড়াই ব্যাংকগুলো একীভূত করছে, যা সংবিধান অনুযায়ী তাদের অধিকার লঙ্ঘন করে।”
রিটে আরও বলা হয়েছে, পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি গুরুতর সংকট তৈরি করেছে, যেখানে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঋণ প্রদান এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
রিটে বলা হয়েছে, একীভূত হওয়া এই পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এবং এর ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এই পাঁচটি বিপন্ন ব্যাংক একীভূত করে একটি নতুন শারীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন করে। নতুন ব্যাংকটির দুটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে — “ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক” এবং “সন্মিলিত ইসলামী ব্যাংক”।
রিটের মাধ্যমে, সরকারকে একটি নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের তাদের প্রাপ্য শেয়ার বরাদ্দ করা হয় এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
