সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৬ সাল থেকে তাদের আমানতের ওপর সর্বাধিক ৯.৫% লভ্যাংশ পাবেন বলে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মানসুর। আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ব্যাংকের সুদের হার বাজারভিত্তিক এবং ইসলামী ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে নির্ধারিত।
গভর্নর মানসুর সাম্প্রতিক দুই বছরের ব্যাংকের আর্থিক ফলাফল সম্পর্কেও আশঙ্কা দূর করার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য আমানতকারীরা ৪% হারে লাভ পাবেন। সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অন্তর্গত পাঁচটি ব্যাংকই এই সময়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল। ইসলামী ব্যাংকিং নীতির অধীনে, ব্যাংক ক্ষতির মুখে থাকলে আমানতকারীরা লাভ পাওয়ার অধিকার রাখে না। তবে সরকার ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্যে ৪% অনুকম্পা (ex gratia) প্রদান করেছে, যা মোট প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গভর্নর মানসুর আমানতকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ তুলে ধরেছেন, যা নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| আমানতের বৈশিষ্ট্য | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| সর্বাধিক লভ্যাংশ (২০২৬ থেকে) | ৯.৫% |
| ২০২৪–২০২৫ সালের লাভের হার | ৪% (সরকার প্রদত্ত অনুকম্পা) |
| মাসিক আমানত স্কিম | ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে মাসিক লভ্যাংশ প্রদান শুরু |
| উত্তোলনের সীমা | ২ লাখ টাকার বেশি মূলধন উত্তোলনে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াকরণ সময় লাগতে পারে |
| গ্রাহক সহায়তা | আগামী সপ্তাহে অভিযোগ নিবন্ধনের জন্য হটলাইন চালু করা হবে |
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মাসিক আমানত স্কিমের জন্য মাসিক লভ্যাংশ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। তবে যারা ২ লাখ টাকার বেশি মূলধন উত্তোলন করতে চান, তাদের জন্য প্রক্রিয়াকরণ সময় বেশি লাগতে পারে।
অমানতকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য এবং অভিযোগ দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী সপ্তাহে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করবে। গভর্নর মানসুর আমানতকারীদের এ সুবিধা ব্যবহার করার আহ্বান জানান, যাতে ব্যাংকিং প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হয়।
এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, আমানতকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপন হবে এবং ব্যাংকের কার্যক্রম ইসলামী ব্যাংকিং নীতি ও বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সরকার প্রদত্ত অনুকম্পা কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানিক ক্ষতির পরেও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রের অঙ্গীকার প্রতিফলিত করছে।
