প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি, অল্পের জন্য রক্ষা বড় দুর্ঘটনা
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র একটি শাখায় গভীর রাতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সিংগাইর বাজার এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকটির শাখা ভবন থেকে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ ও সরঞ্জামজুড়ে।
ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. রমজান আলী জানান, রাতের নিরবতা ভেঙে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাংকের ভেতরে থাকা কম্পিউটার, প্রিন্টার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ (এসি) নানা গুরুত্বপূর্ণ অফিস সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। পাশাপাশি ব্যাংকের চেয়ার-টেবিল, আলমারি, কেবিন পার্টিশনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরবর্তীতে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত উপকরণসমূহ
| ক্ষতিগ্রস্ত উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| কম্পিউটার | ৮টি |
| প্রিন্টার | ২টি |
| এয়ার কন্ডিশনার | ৩টি |
| বিভিন্ন ফার্নিচার ও আসবাবপত্র | উল্লেখযোগ্য পরিমাণ |
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
ঘটনার খবর পেয়ে সিংগাইর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে থানা পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। প্রায় এক ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও দক্ষ পদক্ষেপের কারণে আগুন পাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়েনি, ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সিংগাইর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মো. মহিবুর রহমান বলেন,
“খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত কাজ শুরু করায় আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে হচ্ছে।”
ঘটনার পরদিন সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র ঢাকা নর্থ জোনের প্রধান ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট একে এম মাহবুব মোরশেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ নেন এবং শাখার কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
শাখা ব্যবস্থাপক মো. রমজান আলী গ্রাহকদের উদ্দেশে বলেন,
“এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। সবাইকে ধৈর্য ধরে আমাদের সঙ্গে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের মতে, গভীর রাতে আগুন লাগলেও দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে বড় ধরনের মানবিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা হবে এবং ফায়ার অ্যালার্ম ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে।
এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় জনগণ ও ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও, কর্তৃপক্ষের দ্রুত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ও আশ্বাসে গ্রাহকদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরছে।
