বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর জন্য অনুমোদন পেয়েছে। এই অনুমোদন দিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বন্ডটির মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে সাত বছর, যা ব্যাংকের টিয়ার-২ মূলধন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০০৭তম কমিশন সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সভায় যমুনা ব্যাংক এবং ট্রাস্ট ব্যাংক এর বন্ডের মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরে বিএসইসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিটি ব্যাংকের অনুমোদিত বন্ডটি আনসিকিউরড, নন-কনভার্টিবল, ফুললি পেইড আপ, ফুললি রিডিমেবল এবং কুপন বিয়ারিং সাব-অর্ডিনেটেড প্রকৃতির। কুপন রেট নির্ধারিত হবে রেফারেন্স বা বেঞ্চমার্ক রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ কুপন মার্জিন যোগ করে।
এই বন্ড প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে, যা লক্ষ্যবস্তু বিনিয়োগকারী হবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ব্যাংক, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী এবং মিউচুয়াল ফান্ড। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
সিটি ব্যাংক জানায়, বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগ্রহকৃত অর্থ করপোরেট, রিটেইল এবং এসএমই খাতের জন্য ব্যবহৃত হবে। বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, আর অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। এছাড়া, বন্ডটি অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন জানান, ‘আমাদের ২ হাজার কোটি টাকার টিয়ার-২ মূলধন জোগাড়ের আইনি সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে এখন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাজার থেকে উত্তোলন করতে চাই। এর ফলে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা ১৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, যা কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ থাকা আবশ্যক। উচ্চ মূলধন পর্যাপ্ততা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকের জন্য জরুরি এবং ঋণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে সহায়ক।’
নিম্নে বিএসইসির অনুমোদিত অন্যান্য বন্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| ব্যাংকের নাম | বন্ডের পরিমাণ | পুরনো মেয়াদ | নতুন মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| যমুনা ব্যাংক | ৮০০ কোটি টাকা | পূর্বনির্ধারিত | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| ট্রাস্ট ব্যাংক | ৫০০ কোটি টাকা | পূর্বনির্ধারিত | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
এটি শেষবারের মতো এই মেয়াদ বৃদ্ধি বলে বিএসইসি জানিয়েছে। এই উদ্যোগ ব্যাংকের মূলধন অবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সর্বমোট, সিটি ব্যাংকের এই ১২০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু দেশের ব্যাংকিং খাতে কর্পোরেট এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
