সিটি ব্যাংক গুলশানে জমি কিনে নতুন আধুনিক ভবনের অবকাঠামো গড়ে তুলছে।

গুলশানে ৪০ কাঠা জমিতে নিজস্ব প্রধান কার্যালয়ের জন্য ২৮ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সিটি ব্যাংক। ব্যাংকটি এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই রাজউক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েছে। সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও এ পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে। তবে চলতি বাজার মূল্যের তুলনায় বেশি দামে জমি কেনার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ব্যাংক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিটি ব্যাংক প্রথমে গুলশানে ২০ কাঠা জমি মালিকানা করেছিল। সম্প্রতি এই জমির পার্শ্ববর্তী আরও ২০ কাঠা জমি ক্রয় করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত জমি ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৪৫ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাজার মূল্য বিবেচনায় এটি অনেক বেশি।

বিষয়বিবরণ
জমির মোট আয়তন৪০ কাঠা
নতুন ভবনের তলা সংখ্যা২৮ তলা
পার্কিংয়ের জন্য বরাদ্দ৫ তলা
ব্যাংকের কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ২৩ তলা
অতিরিক্ত জমি ক্রয়ের খরচ৩৪৫ কোটি টাকা
কর্মী সংখ্যা৭,১০০+ জন
শাখা সংখ্যা১৩৪ শাখা, ৭০ উপশাখা

বছরের আগে গুলশানের ২০ কাঠা জমির ওপর যে পুরানো ভবন ছিল, তা ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। রাজউক ইতিমধ্যেই ২৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। নতুন ভবনের প্রথম ৫ তলা গাড়ি পার্কিং-এর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, বাকি ২৩ তলায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম চলবে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যাংকের ভবন ও কার্যালয় শুধু কার্যকর নয়, নান্দনিক দিক থেকেও দৃষ্টিনন্দন হয়। আমরা চাই দেশের ব্যাংক খাতে এমন একটি উদাহরণ স্থাপন করতে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়ে আমরা দ্রুততম সময়ে আমাদের নিজস্ব ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করব।“

বর্তমানে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় একটি ভাড়া ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণ কার্যক্রমের জন্য সেখানে সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। দেশের মধ্যে সিটি ব্যাংকের ১৩৪টি শাখা এবং ৭০টি উপশাখা রয়েছে। ব্যাংকের মোট কর্মীসংখ্যা বর্তমানে ৭,১০০ এর বেশি।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গুলশানে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় একটি অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ভবনে স্থানান্তরিত হবে, যা দেশের ব্যাংক খাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তবে জমি ক্রয়ের বাজারমূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে চলতি বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Comment