বাংলাদেশে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন যৌথভাবে চালু করেছে “সাশ্রয়ী ও টেকসই আবাসন নকশা প্রকল্প”। এটি আইপিডিসির কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচির অংশ হিসেবে গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য এমন ঘর নির্মাণের নকশা তৈরি করা, যা হবে সহনীয় মূল্যের, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন স্কুল এই প্রকল্পে এমন নকশা তৈরি করবে যা স্থানীয় মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
অন্যদিকে, আইপিডিসি ফাইন্যান্স তাদের “ভালোবাসা হোম লোন” কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্রকল্পের উপযোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, যাতে তারা সহজ শর্তে নিজেদের টেকসই ঘর নির্মাণের সুযোগ পায়।
সম্প্রতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইনের ডিন প্রফেসর ফুয়াদ হাসান মালিক, পিএইচডি, চেয়ারপারসন প্রফেসর জয়নাব ফারুকি আলী, পিএইচডি, এবং আইপিডিসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মো. রিজওয়ান দাউদ শামস, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সামিউল হাশিম, হেড অব লিগ্যাল ও কোম্পানি সেক্রেটারি, এবং মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, হেড অব রিটেইল বিজনেস।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিজওয়ান দাউদ শামস বলেন,
“আইপিডিসি বিশ্বাস করে টেকসই উন্নয়ন কেবল একটি ধারণা নয়, এটি আমাদের দায়িত্বের অংশ। নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান প্রতিটি মানুষের অধিকার হওয়া উচিত, বিশেষ সুবিধাভোগীদের নয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা একাডেমিক উদ্ভাবন ও আর্থিক বাস্তবায়নকে একত্রিত করছি, যাতে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করা যায়।”
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ফুয়াদ হাসান মালিক বলেন,
“আমরা এমন আবাসন নকশা তৈরি করতে চাই যা শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। আইপিডিসির সহযোগিতায় আমরা এমন একটি মডেল তৈরি করতে চাই, যা ভবিষ্যতের সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হবে।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই নগরায়ণ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
