ভোলা জেলায় প্রান্তিক কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এনআরবিসি ব্যাংক স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ করছে। এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খানের সভাপতিত্বে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক মো. ফিরোজ আহমেদ, এনআরবিসি ব্যাংকের এসএমই ও কৃষি অর্থায়ন বিভাগের প্রধান শেখ আহসানুল হক, মাইক্রোক্রেডিট বিভাগের প্রধান মো. রমজান আলী ভুঁইয়া এবং বরিশাল-খুলনা জোনের প্রধান মো. আব্দুল হালিম। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ২৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্থানীয় শাখাকে সঙ্গে নিয়ে লিড ব্যাংক হিসেবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে এনআরবিসি ব্যাংক।
পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭৫০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে এনআরবিসি ব্যাংক শুধুমাত্র ভোলা জেলায় ১৩৭ জন গ্রাহককে ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। সারা দেশে ব্যাংকটি এখন পর্যন্ত মোট ১৫০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে।
এই কর্মসূচির আওতায় ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী এবং স্কুল ব্যাংকিং গ্রাহকরা মাত্র ৭ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারছেন। ঋণের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও প্রান্তিক মানুষের স্বাবলম্বিতা
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রূপ রতন পাইন বলেন, “প্রত্যেক নাগরিকের অন্তত একটি ব্যাংক হিসাব থাকা উচিত। ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের লক্ষ্য হলো প্রান্তিক মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা, যাতে তারা নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থান গড়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মিলে এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে, যা প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এনআরবিসি ব্যাংকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ
এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, “টেকসই উন্নয়নের জন্য সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষদের আর্থিকভাবে এগিয়ে আনা জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের শাখা ও উপশাখাগুলো এই কাজেই নিয়োজিত।”
তিনি আরও জানান, প্রান্তিক মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
