বাংলাদেশ ব্যাংকের আজ (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ১১টি ব্যাংক এবং অধিকাংশ বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয় করেনি। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও অনেক প্রতিষ্ঠান সিএসআর কার্যক্রমে অংশগ্রহণে পিছিয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ১১টি ব্যাংক একটিও টাকা ব্যয় করেনি। এনবিএফআইগুলোর মধ্যে ৩৫টির মধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠান কোনো সিএসআর ব্যয় করেনি।
তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাংকগুলোর মোট সিএসআর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট সিএসআর ব্যয় হয়েছে ১৯৭.৮৫ কোটি টাকা, যা বছরের প্রথমার্ধের ১৪৭.১৯ কোটি টাকার তুলনায় ৫০.৬৬ কোটি টাকা বেশি।
সিএসআর ব্যয় মূলত কয়েকটি ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রধান ব্যয়ের তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো:
| ব্যাংকের নাম | সিএসআর ব্যয় (কোটি টাকা) |
|---|---|
| স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক | ২৭.৭১ |
| ব্র্যাক ব্যাংক | ২০.০৪ |
| এক্সিম ব্যাংক | ১৯.৮৫ |
ব্যক্তিগত ব্যাংকগুলো মোট সিএসআর ব্যয়ের ৭৯.১৬% অবদান রেখেছে, যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অবদান মাত্র ৪.০৯%। এটি নির্দেশ করে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তিগত ব্যাংকের মধ্যে ব্যয়ের পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট।
সিএসআর ব্যয় প্রধানত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সীমাবদ্ধ থেকেছে। মোট ব্যয়ের ৩২.৪৭% শিক্ষা খাতে এবং ২৯.০৭% স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়েছে। একসাথে এই দুই খাত মোট সিএসআর ব্যয়ের প্রায় ৬০% দখল করেছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৪.৮১%, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০% নির্দেশনার তুলনায় কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের নিট মুনাফার সর্বোচ্চ ১% পর্যন্ত সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয় করতে বাধ্য। এর মধ্যে ন্যূনতম ৩০% শিক্ষা খাতে, ৩০% স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে হবে। ২০% পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এবং অবশিষ্ট ২০% আয়ের সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে ব্যবহার করা যেতে পারে।
২০২৫ সালের তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, সিএসআর ব্যয় এখনও কয়েকটি বড় ব্যাংকের মধ্যে সীমিত এবং এনবিএফআই ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ এখনও যথেষ্ট নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম সমানভাবে বিস্তৃত করা এবং পরিবেশ-সংরক্ষণে গুরুত্ব বাড়ানো প্রয়োজন।
