৫ ব্যাংক একীভূতকরণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

ঢাকা, ২০২৫: সংকটে থাকা পাঁচটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সাধারণ বিনিয়োগকারী শহিদুল ইসলামের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহসিব হোসাইন রিটটি দায়ের করেন। রিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকের সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডিং অনুপাতে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। আদালতের কাছে এই বিষয়ে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ মাহসিব হোসাইন বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, আমার মক্কেলের সম্পত্তি এবং ব্যবসা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। আমার মক্কেলের মতো সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়ে যাওয়া এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় করেছেন। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন ব্যাংকে তাদেরকে কোনো শেয়ার বরাদ্দ না দিয়ে সরকার একীভূতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে—যা তাদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মক্কেল আদালতের কাছে আর্জি করেছেন, যাতে সরকারকে প্রস্তাবিত নতুন ব্যাংকে তার শেয়ার বরাদ্দ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।”

এর আগে, ৯ অক্টোবর ২০২৫ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সংকটে পড়া পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এতে অন্তর্ভুক্ত ব্যাংকগুলো হল:

ব্যাংকের নামঅবস্থান / মন্তব্য
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসংকটে থাকা ব্যাংক
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসংকটে থাকা ব্যাংক
ইউনিয়ন ব্যাংকসংকটে থাকা ব্যাংক
এক্সিম ব্যাংকসংকটে থাকা ব্যাংক
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসংকটে থাকা ব্যাংক

নতুন ব্যাংকের জন্য দুটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে—‘ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক’ এবং ‘সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক’। ব্যাংকটি শরিয়াহভিত্তিক হবে এবং বাণিজ্যিক ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

ব্যবসায়িক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার ও শেয়ার বরাদ্দের বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই রিটের মাধ্যমে আদালত যদি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষ নেন, তবে নতুন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দের কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা তৈরি হবে। ফলে দেশের পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Comment